সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত প্রবাসীর মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাশবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো আত্রাই উপজেলায় পৌঁছায়। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো সৌদি আরব থেকে দেশে আনা হয়।
মরদেহগুলো আত্রাইয়ে পৌঁছানোর পর স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। নিহতদের মরদেহ একনজর দেখতে রাত থেকেই আত্রাই থানা কম্পাউন্ডে ভিড় করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে সাতজনের একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিহত সাতজন হলেন—আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বয় করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে মরদেহগুলো বিনা খরচে দেশে এনে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পরিচয় শনাক্ত হওয়া সাতজনের মরদেহ দেশে এসেছে।”
ইউএনও আরও বলেন, “শুক্রবার সকাল ১০টায় আত্রাই উপজেলা সদরের মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে সাতটি মরদেহের একত্রে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হবে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এ উদ্যোগ নিয়েছে।”
সৌদি আরবের ওই অগ্নিকাণ্ডে শুরুতে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বর্তমানে আত্রাই উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
কেকে/সাশ