গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় পাবলিক কবরস্থান ও প্রস্তাবিত মাদরাসা-মসজিদের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর এবং জমি দখলের চেষ্টার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ জানান প্রস্তাবিত ওসমান (রা.) কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও স্থানীয় কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাহেদুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বোনারপাড়ার শিমুলতাইড় এলাকায় তার পরিচালনাধীন পাবলিক কবরস্থান, প্রস্তাবিত ওসমান (রা.) কওমি মাদরাসা (রেজিস্ট্রার নম্বর- ৪৭০৭৪০১৯০/২২) ও মসজিদের নামে ৩টি দলিলে মোট ১০৬ শতাংশ জমি দান করা হয়। এর মধ্যে প্রস্তাবিত মসজিদের অংশটি ৪০টি কংক্রিটের খুঁটি দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা ছিল।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ৭ আগস্ট প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন মির্জা জুলফিকার হায়দার তারেক ও তার সহযোগীরা ৪০-৫০ জন ভাড়াটিয়া লোক নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা সীমানার কংক্রিটের খুঁটি গুলো উপড়ে ফেলে ১৮টি খুঁটি লুট করে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক জমিতে ধান রোপণের চেষ্টা করে।’
খবর পেয়ে জাহেদুল ইসলাম জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল দিয়ে পুলিশের সহায়তা চান এবং স্থানীয়দের নিয়ে বাকি খুঁটিগুলো রক্ষার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষকে জমিতে ধান রোপণ করতে নিষেধ করে। পুলিশ চলে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষ আবারও দখলের চেষ্টা চালায় এবং বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
পরবর্তী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উপড়ে ফেলা বাকি খুঁটিগুলো আগের স্থানে পুনর্স্থাপন করা হয়। এ সময় প্রতিপক্ষ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠান ও তার ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করা হয়।
জাহেদুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, তফসিলভুক্ত জমির ৯ শতাংশ নিয়ে আদালতে বাটোয়ারা মামলা (নম্বর ৭৪/১০) বিচারাধীন ছিল। চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই চলতি বছরের জানুয়ারিতে জুলফিকার হায়দার আবেদন করে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। পরে হয়রানির উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় নতুন মামলা দায়ের করেন।
আদালত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে স্ব-স্ব অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়ে সাঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) তদন্তের দায়িত্ব দেন। কিন্তু জুলফিকার হায়দার আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) উজ্জ্বল বিষয়টি তদন্ত করছেন।
কেকে/এআই