ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় মৃত বতু শিকদারের জায়গায় আদালতের ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জায়গার ওপর ইটের রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের চানপট্টি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চানপট্টি মৌজার চানপট্টি গ্রামের উত্তর জামে মসজিদ থেকে মন্নু শিকদার ও মাজেদ শিকদারের বাড়ি হয়ে ঘারুয়া-আজিমনগর মোড় পর্যন্ত গ্রাম্য সড়ক দীর্ঘদিন ধরে মাটির রাস্তা হিসেবে স্থানীয়রা ব্যবহার করে আসছেন। প্রায় ১০ বছর ধরে রাস্তার জায়গা নিয়ে মৃতু বতু শিকদারের সঙ্গে মনা শিকদার, মাজেদ শিকদার, হাসেম শিকদারের বিরোধ চলে আসছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ প্রায় ২০ ফুট জায়গার পরিবর্তে প্রতিপক্ষরা রাস্তা প্রশস্থ করে প্রায় ৬০ ফুট পর্যন্ত ইটের রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
শুক্রবার সকালে রাস্তা নির্মাণে ভুক্তভোগীরা বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
করা হয়েছে।
তাদের আরও অভিযোগ, সরকারি খাস খতিয়ানের জায়গা থাকা সত্ত্বেও তা বাদ দিয়ে বয়োবৃদ্ধ ছাকিরন বেগমের মালিকানাধীন জায়গার ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জায়গা মৃত বতু শিকদারের সম্পত্তি। এ নিয়ে এলাকার মনা শিকদার, হাসেম শিকদারসহ কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের জেরে এর আগে কয়েকবার জায়গাটি দখল করে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা-মোকদ্দমা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
গৃহবধূ হোসনে আরা বলেন, ‘রাস্তা সবারই প্রয়োজন। কিন্তু পাশেই প্রায় ২৫ ফুট সরকারি খাস জায়গা থাকা সত্ত্বেও সেটি বাদ দিয়ে আমাদের মালিকানাধীন জায়গার ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। আমাদের পুরুষ মানুষ বাড়িতে নেই। আদালতের ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সংঘবদ্ধভাবে আমাদের জায়গা দখল করে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে।’
ছাকিরন বেগম বলেন, ‘সরকারি জায়গায় রাস্তা নির্মাণের প্রয়োজন হলে সরকারি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের লোকজনের মাধ্যমে করা উচিত। ব্যক্তিগত জায়গার ওপর দিয়ে সাধারণ মানুষ কেন রাস্তা নির্মাণ করবে।’
স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য বলেন, ‘বিরোধপূর্ণ জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা রয়েছে।’
রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে বিষয়টি দীর্ঘদিনের বিরোধ মীমাংসার দিকে যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘পাশেই ২৫-৩০ ফুট সরকারি জায়গা রয়েছে। সেটি বুঝিয়ে না দিয়ে একজনের ব্যক্তিগত জায়গার ওপর দিয়ে জোরপূর্বক ইটের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। কোনো সমাধান না করে এভাবে রাস্তা নেওয়া ঠিক হয়নি।’
তবে প্রতিপক্ষরা দাবী করেন, সরকারি হালটের জায়গাই রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। তাদের জায়গা দখল করা হয়নি। আমরা নিজেরাই ইট বালু দিয়ে নিজেদেরই জায়গায় রাস্তা তৈরি করছি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ মুন্সি জানান, দুই পক্ষের সঙ্গে কথা ছিল সবার উপস্থিতিতে জরিপের মাধ্যমে রাস্তার কাজ করা হবে।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। বিষয়টি আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
কেকে/এআই