সৌদি আরবে আগুনে পড়ে নওগাঁর নিহত সাতজনের মরদেহ দেশে এসেছে। মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকাল তিনটায় গোন্ডগোহালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাদের একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহগুলোকে নেওয়া হয় গ্রামটির কবরস্থানে।
লাশ গ্রামে পৌঁচানোর আগেই খুঁড়ে রাখা হয়েছিলো পাশাপাশি চারটি কবর। কবরস্থানের এক পাশে দুই ভাই মোহন ও সুমনের কবর আর আরেক পাশে একই গ্রামের বাসিন্দা কলিমউদ্দিন এবং রুবেল হোসেনের কবর। তারা সবাই সৌদি আরবের সোফা তৈরির কারখানায় এক সঙ্গেই কাজ করতেন। গ্রামে একসঙ্গে এতো লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো গোন্ডগোহালীবাসী।
গোন্ডগোহালী গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, ‘৪৭ বছরের জীবনে কখনো এতগুলো লাশ একসঙ্গে দাফন করতে দেখিনি। গ্রাম থেকে একসঙ্গে চারজনের বিদাই সত্যিই আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। আমরা চাইনা এমন কোন ঘটনা গ্রামে ঘটুক।’
গ্রামের আরেক বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনা জানার পর থেকেই আমাদের খাওয়া ঘুম ঠিকমতো হচ্ছে না। আমাদের বিশ্বাস হচ্ছে না ছেলেগুলো আমাদেরকে রেখে এভাবে চলে গেছে। পরিবারগুলো একা হয়ে গেলো।’
এর আগে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০ টায় আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে সম্মিলিত জানাজা শেষে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয় পরিবারগুলোর মাঝে। এরপর পরিবারের সদস্য এবং স্বজনরা মরদেহগুলো নিয়ে যান নিজ নিজ গ্রামে।
গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত ১৬ বাংলাদেশী। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে পরিচয় সনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দেশে আসে। দেশে আসা নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলাতে।
আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন— উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
কেকে/এআই