নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কবলে পড়েছিলেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও সিনেমার পুরো টিম। তবে একদিন পর একই পথে যাত্রার পরিকল্পনা থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন তারা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাংলাদেশে ফিরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় নেপালের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান অপু বিশ্বাস।
অভিনেত্রী জানান, গত ২৬ আগস্ট কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টার দূরত্বের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। কাকতালীয়ভাবে সিনেমার শুটিং টিমের ২৭ আগস্ট ওই পথ দিয়ে কাঠমান্ডু যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ফলে মাত্র একদিনের ব্যবধানে তারা বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পান।
ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের যে রাস্তা দিয়ে কাঠমান্ডু ঢোকার কথা ছিল, ঠিক তার কাছাকাছি সময়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটি আল্লাহর অশেষ রহমত যে ২৬ তারিখ নয়, ২৭ তারিখ আমাদের মুভ করার কথা ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্যোগটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ওই রাস্তাটি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’
এমন পরিস্থিতিতে শুটিং চালিয়ে যাওয়াকে অমানবিক মনে হওয়ায় কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন অপু। তিনি বলেন, ‘এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মাঝে গানের শুটিং করা অত্যন্ত অমানবিক দেখায়। তাই আমি পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই এবং সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসি।’
উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরে নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং চলছিল। এতে অপু বিশ্বাসের পাশাপাশি অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেতা খরাজ মুখার্জি। নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির খবর প্রকাশের পর তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ভক্তরা।
বৃহস্পতিবার কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছে খরাজ মুখার্জি ভক্তদের আশ্বস্ত করেন, তারা নিরাপদে ছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার ঢাকায় ফেরেন অপু বিশ্বাস এবং নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতির বিস্তারিত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
কেকে/সাশ