ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বাজার বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করছে সরকার। বছরে ৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ বিভাগের এক সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ, বা ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট— নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের যে বৃহত্তর পরিকল্পনা রয়েছে, এ উদ্যোগ তারই অংশ। গত ২৫ আগস্ট বেসরকারি সৌরবিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে কীভাবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ৪ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্য অর্জন করা যায়, সে বিষয়ে খাতসংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া হয়।
বৈঠকে উপস্থিত একটি সোলার কোম্পানির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য এই ব্যবসা আকর্ষণীয় করতে প্রথম ছয় মাসে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। যারা আগামী ছয় মাসের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন সম্পন্ন করবেন, তারা তাদের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ লাভজনক দামে সরকারের কাছে বিক্রি করার সুযোগ পাবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনাসহ শিগগিরই একটি পরিপত্র জারি করা হবে।
সরকার-অর্থায়নকৃত প্রথাগত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিপরীতে এই ছাদভিত্তিক কর্মসূচিটি পরিচালিত হবে ওপেক্স (অপারেটিং এক্সপেন্ডিচার) মডেলের আওতায়। এতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সোলার সিস্টেমের স্থাপন, অর্থায়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে এবং গ্রাহকেরা উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন।
নতুন মডেলের অধীনে বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানার জন্য সোলার প্যাকেজ তৈরি করতে সরকার বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে ‘সার্ভিস প্রোভাইডার’ বা সেবা প্রদানকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করবে। ফলে কারখানা, অফিস ও অন্যান্য ভবনের মালিকেরা নিজেরা কোনো প্রাথমিক বিনিয়োগ না করেই সৌরবিদ্যুৎ বিনিয়োগকারীদের কাছে কার্যকরভাবে তাদের ছাদ ভাড়া দিতে পারবেন। বেসরকারি খাতের সোলার ইনস্টলেশন প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপটি দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের দ্রুত বিস্তার এবং শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য একটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ।
সুপারস্টার রিনিউয়েবলসের প্রধান নির্বাহী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ছাদভিত্তিক সোলার প্রসারের পাশাপাশি গুণগত মান বজায় রাখার জন্য সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের চেয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার যদি সহজ এবং সাশ্রয়ী হয়, তবেই গ্রাহক এতে স্থানান্তরিত হতে আগ্রহী হবেন।’
ওমেরা সোলারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহিম বলেন, ‘কম খরচে দ্রুত ঋণ পাওয়ার সুবিধা, উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ক্রয়ের স্পষ্ট ও আকর্ষণীয় ট্যারিফ কাঠামো এবং নেট মিটারিংয়ের জন্য দ্রুত ও এক ছাতার নিচে (ওয়ান-স্টপ) অনুমোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে জেলাভিত্তিক সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন এবং কাজের মান নিশ্চিত করতে একটি স্বচ্ছ অনুমোদন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।’
কেকে/এআই