সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬,
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে সেমিনার পুলিশের বাধায় বাতিল      মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কোনো ঝুঁকি দেখছে না ঢাকা : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী      সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন আহমেদকে তলব দুদকের      সাগর-রুনি হত্যায় একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ‘কানেকশন মিলেছে’ : চিফ প্রসিকিউটর      ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে মাইলফলক হবে লালদিয়া টার্মিনাল : অর্থমন্ত্রী      হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর প্রাণহানি      ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে: রাষ্ট্রপতি      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়াচ্ছে সমরাস্ত্রশিল্প
মো. ফরহাদ হোসেন
প্রকাশ: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৯ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

জলবায়ু সংকট নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে আলোচনা চলছে, সেখানে সাধারণত জীবাশ্ম জ্বালানি, যানবাহন, শিল্পকারখানা, বিমান ও নৌপরিবহন খাতের কথা বেশি বলা হয়। কিন্তু এ আলোচনায় প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায় সামরিক খাত- যার কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ অনেক বেশি। 

যুদ্ধের প্রস্তুতি, সামরিক মহড়া, অস্ত্র উৎপাদন এবং যুদ্ধ নিজেই জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অথচ সামরিক খাতের নির্গমন নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা তুলনামূলকভাবে কম এবং তথ্যও অনেক ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ। বিজ্ঞানভিত্তিক সংগঠন সায়েন্টিস্টস ফর গ্লোবাল রেসপনসিবিলিটি (এসজিআর) এবং কনফ্লিক্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অবজারভেটরি (সিইওবিএস) ২০২২ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় অনুমান করেছে, বিশ্বের সামরিক খাতের মোট কার্বন ফুটপ্রিন্ট বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। গবেষণাটিতে এই হিসাবের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য ধরা হয়েছে। 

গবেষকদের তুলনা অনুযায়ী, এই পরিমাণ কোনো দেশের নির্গমন হলে তা বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম জাতীয় কার্বন ফুটপ্রিন্টের সমান হতো এবং রাশিয়ার জাতীয় নির্গমনের চেয়েও বেশি। তবে এটি একটি আনুমানিক হিসাব; সামরিক নির্গমনের তথ্যের ঘাটতি ও পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।

যুদ্ধ না থাকলেও সামরিক খাত কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত করে-এ প্রশ্ন স্বাভাবিক।

প্রথম কারণ, সামরিক বাহিনীর জ্বালানিনির্ভরতা। যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান, হেলিকপ্টার, রণতরি, ট্যাংক, সামরিক যান এবং সরবরাহব্যবস্থা পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ জেট জ্বালানি, ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহার হয়। নিয়মিত সামরিক মহড়া, দূরবর্তী অঞ্চলে সেনা মোতায়েন এবং সরঞ্জাম পরিবহনও এই নির্গমনের অংশ।

ন্যাটোও স্বীকার করে যে, সামরিক কার্যক্রম ও সামরিক স্থাপনা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের উৎস। এই নির্গমন পরিমাপের জন্য জোটটি একটি পদ্ধতি তৈরি করেছে। তবে সদস্য-দেশগুলোর তথ্য-প্রকাশের ধরন ও পরিমাণ এক নয়।

দ্বিতীয় কারণ- সামরিক অবকাঠামো। সেনানিবাস, বিমানঘাঁটি, নৌঘাঁটি, রাডারকেন্দ্র, সামরিক আবাসন এবং প্রশিক্ষণক্ষেত্র সারা বছর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে। এসব স্থাপনা নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার প্রতিটি ধাপেই নির্গমন তৈরি হয়।

তৃতীয় কারণ অস্ত্র উৎপাদন শিল্প। যুদ্ধবিমান, রণতরি, সাঁজোয়া যান, ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম তৈরিতে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, টাইটানিয়াম, সিমেন্ট, রাসায়নিক পদার্থ এবং নানা ধরনের শিল্পপণ্য প্রয়োজন হয়। এসব কাঁচামাল উৎপাদন ও সরবরাহের প্রতিটি পর্যায়ে কার্বন নির্গমন ঘটে।

এ কারণে সামরিক খাতের কার্বন পদচিহ্ন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে জ্বালানি পোড়ানোর হিসাব নয়; এর মধ্যে অস্ত্র উৎপাদন, অবকাঠামো নির্মাণ, সরবরাহব্যবস্থা এবং সামরিক ঘাঁটির পরিচালনাও অন্তর্ভুক্ত।

শান্তিকালীন নির্গমন সামরিক খাতের মোট পরিবেশগত প্রভাবের একটি অংশ মাত্র। যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানি ব্যবহার, সামরিক অভিযান এবং সরবরাহব্যবস্থা দ্রুত বেড়ে যায়।

যুদ্ধবিমান অধিকসংখ্যক অভিযান পরিচালনা করে, সাঁজোয়া যান ও সামরিক বহর দীর্ঘসময় সক্রিয় থাকে, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ পরিবহন করতে হয় এবং সেনা, খাদ্য, জ্বালানি ও অস্ত্র সরবরাহের জন্য বড় একটি লজিস্টিক নেটওয়ার্ক চালু রাখতে হয়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় যুদ্ধের প্রত্যক্ষ ধ্বংসযজ্ঞ। তেল শোধনাগার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার, কলকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ফলে অগ্নিকাণ্ড ও অতিরিক্ত নির্গমন তৈরি হতে পারে। শহুরে যুদ্ধে ভবন, যানবাহন ও শিল্পস্থাপনা ধ্বংস হলেও কার্বন নির্গমন ঘটে।

তবে এসব নির্গমনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা কঠিন। তাই সামরিক খাতের শান্তিকালীন বৈশ্বিক কার্বন পদচিহ্নের হিসাবের সঙ্গে যুদ্ধজনিত অতিরিক্ত নির্গমনকে এক করে দেখা ঠিক নয়। যুদ্ধের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পরিবেশগত ক্ষতি আলাদাভাবে হিসাব করা প্রয়োজন।

যুদ্ধ শেষ হলেও পরিবেশগত ক্ষতি থেমে যায় না। পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন হয় বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট, কংক্রিট, ইস্পাত, কাচ ও পিচ। এসব উপকরণ উৎপাদন ও পরিবহনের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কার্বন নির্গমন জড়িত। ফলে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন বহু বছর ধরে নতুন নির্গমনের কারণ হতে পারে।

যুদ্ধ প্রকৃতির কার্বন শোষণক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। বনভূমিতে আগুন, বন উজাড়, জলাভূমি ধ্বংস, মাটির ক্ষয় এবং বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতির ফলে একদিকে সঞ্চিত কার্বন বাতাসে মিশে যায়, অন্যদিকে ভবিষ্যতে কার্বন শোষণের ক্ষমতাও কমে যায়।

সামরিক খাতের বিদ্যমান নির্গমনের সঙ্গে এখন যুক্ত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সামরিক ব্যয়।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা সিপ্রির হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বের সামরিক ব্যয় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৮৮৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি ছিল টানা ১১তম বছরের বৃদ্ধি এবং সিপ্রির হিসাব অনুযায়ী সর্বকালের সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয়। একই বছর ৩২টি ন্যাটো সদস্য-দেশের মোট সামরিক ব্যয় ছিল প্রায় ১ দশমিক ৫৮১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বৈশ্বিক সামরিক ব্যয়ের প্রায় ৫৫ শতাংশ।

২০২৫ সালের জুনে নেদারল্যান্ডসের হেগে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে সদস্য-দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ও প্রতিরক্ষা-নিরাপত্তাসংক্রান্ত খাতে ব্যয়ের বিষয়ে সম্মত হয়। এর মধ্যে অন্তত ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মূল সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা প্রয়োজন মেটাতে এবং সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫ শতাংশ অবকাঠামো, নেটওয়ার্ক সুরক্ষা, নাগরিক প্রস্তুতি, উদ্ভাবন ও প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি শক্তিশালী করার মতো সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত।

২০১৪ সালে ন্যাটোর নির্ধারিত লক্ষ্য ছিল জিডিপির ২ শতাংশ সামরিক ব্যয়। নতুন ৫ শতাংশের লক্ষ্যটি তাই আগের লক্ষ্যের তুলনায় অনেক বড়। সিপ্রির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ন্যাটো সদস্যদের গড় সামরিক ব্যয় ছিল জিডিপির ২ দশমিক ২ শতাংশ, যার মোট পরিমাণ ছিল আনুমানিক ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

সামরিক ব্যয় বাড়লে কার্বন নির্গমনও বাড়তে পারে- এমন সম্পর্ক নিয়ে একাধিক গবেষণা হয়েছে। এসজিআরের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় অনুমান করা হয়েছে, সামরিক ব্যয় ১০০ বিলিয়ন ডলার বাড়লে বছরে সামরিক কার্বন পদচিহ্ন প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য বাড়তে পারে। তবে গবেষণাটিই বলছে, এই হিসাবের অনিশ্চয়তা যথেষ্ট বেশি; বিভিন্ন গবেষণায় সম্ভাব্য পরিমাণের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

তাই ন্যাটোর নতুন ব্যয়-লক্ষ্যের কারণে নির্গমন ঠিক কতটা বাড়বে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে সামরিক ব্যয় দ্রুত বাড়লে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, জ্বালানি ব্যবহার, অবকাঠামো নির্মাণ এবং সরবরাহব্যবস্থার সম্প্রসারণের কারণে অতিরিক্ত নির্গমনের ঝুঁকি বাড়বে- এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

সামরিক ব্যয় বাড়ার প্রভাব শুধু কার্বন নির্গমনে সীমাবদ্ধ নয়। এটি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থ, কাঁচামাল, শিল্প সক্ষমতা ও দক্ষ জনবলের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে।

সামরিক সম্প্রসারণের জন্য যে ইস্পাত, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম, গবেষণা, প্রকৌশল দক্ষতা ও সরকারি অর্থ ব্যবহৃত হয়, তার একটি অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ গ্রিড, রেল ও গণপরিবহন, ভবনের জ্বালানি-দক্ষতা, ব্যাটারি, কম-কার্বন ইস্পাত এবং জলবায়ু অভিযোজন কর্মসূচিতেও ব্যবহার করা যেত। অবশ্য সামরিক ব্যয়ের প্রতিটি ডলার সরাসরি জলবায়ু বিনিয়োগের বিকল্প-এমন সরল সিদ্ধান্তও সঠিক নয়। একটি দেশের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা চাহিদা ও জলবায়ু নীতির মধ্যে ভারসাম্য প্রয়োজন। কিন্তু সামরিক ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এর পরিবেশগত মূল্য ও সুযোগব্যয় বিবেচনা করা জরুরি। কারণ নিরাপত্তা শুধু সীমান্ত সুরক্ষা বা সামরিক সক্ষমতার বিষয় নয়। খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, জীবিকা এবং জলবায়ু স্থিতিশীলতাও জাতীয় নিরাপত্তার অংশ। এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

প্রথমত, সামরিক নির্গমন পরিমাপ ও প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে অভিন্ন এবং বাধ্যতামূলক নিয়ম চালু করা প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক দেশের সামরিক নির্গমনের তথ্য অসম্পূর্ণ, সীমিত বা তুলনামূলকভাবে অস্বচ্ছ। দ্বিতীয়ত, ন্যাটোসহ বড় সামরিক জোট ও দেশগুলোকে তাদের সামরিক কার্বন পদচিহ্নের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে। এই হিসাব স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই করা গেলে এর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। 

তৃতীয়ত, যুদ্ধের প্রত্যক্ষ নির্গমনের পাশাপাশি যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন, বনভূমি ও জলাভূমি ধ্বংস এবং বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতির হিসাবও জলবায়ু আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। চতুর্থত, অস্ত্রশিল্পে কর্মসংস্থানের স্বল্পমেয়াদি সুবিধার পাশাপাশি একই বিনিয়োগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবহন ও জলবায়ু অভিযোজন খাতে করা হলে কতটা দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারত, তার তুলনামূলক মূল্যায়ন দরকার।

পঞ্চমত, নিরস্ত্রীকরণ, সংঘাত প্রতিরোধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক উদ্যোগকে জলবায়ু নীতির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সামরিক কার্বন পদচিহ্ন কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় শুধু কম-কার্বন অস্ত্র তৈরি নয়; যুদ্ধ ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার প্রয়োজন কমিয়ে আনা।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলার আলোচনায় সামরিক ব্যয় ও অস্ত্রশিল্পের ভূমিকা আর উপেক্ষা করা যায় না। বিশ্ব একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানি কমানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এই দ্বৈত নীতি দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই, তা নিয়ে নতুন করে ভাবা জরুরি।

সামরিক শক্তি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার একটি উপাদান হতে পারে; কিন্তু নিরাপত্তার পূর্ণ সংজ্ঞা নয়। যে পৃথিবীতে মানুষ নিরাপদে বাস করতে পারে না, যেখানে খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্য ও জীবিকা জলবায়ু বিপর্যয়ের মুখে, সেখানে শুধু অস্ত্রের মজুত বাড়িয়ে প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তাই জলবায়ু নীতিতে সামরিক খাতের কার্বন পদচিহ্নকে স্বচ্ছভাবে হিসাব করতে হবে, যুদ্ধের পরিবেশগত ক্ষতিকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং সামরিক ব্যয়ের পরিবেশগত ও সামাজিক সুযোগব্যয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে।

পৃথিবীকে রক্ষার নামে যে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, তা যদি একই সঙ্গে পৃথিবীর জলবায়ুকে অস্থিতিশীল করে তোলে, তাহলে নিরাপত্তার প্রচলিত ধারণাটিই পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে।

লেখক : সহ-সম্পাদক, খোলা কাগজ

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close