মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হয়েছে : মন্ত্রিপরিষদ সচিব      ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত, মৃত্যু আরও চারজনের      নবম পে-স্কেলের অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা      সেপ্টেম্বরে অপরিবর্তিত থাকবে জ্বালানি তেলের মূল্য      হামের উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২৫৬      দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে সেমিনার পুলিশের বাধায় বাতিল      মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কোনো ঝুঁকি দেখছে না ঢাকা : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
নবম বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন তিন ধাপে
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৭ এএম

সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা অধিকতর যৌক্তিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন বেতনস্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। 

সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পাশাপাশি এর সঙ্গে সাযুজ্য রেখে সশস্ত্রবাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন বেতনস্কেল ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশাবলী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বেতন বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্রবাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকার সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করে। ওই সচিব কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। বিস্তারিত পর্যালোচনার পর সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সর্বনিম্ন বেতন বাড়ছে ১৪২ শতাংশ

অনুমোদিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হলেও প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোতে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

ন্যায্যতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাতও পরিবর্তন করা হয়েছে। বিদ্যমান বেতন অনুপাত ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু বেতন বৃদ্ধিই বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’

নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী বর্তমান সরকার ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই একইসঙ্গে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করা হয়েছে।

তবে সরকারের বিবেচনায়, বর্তমানে ওআরওপি বাস্তবায়নে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ প্রয়োজন। পাশাপাশি অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের পূর্বে অবসর গ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকায় এ মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গভাবে ওআরওপি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ কারণে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর পরিবর্তে বর্তমান পর্যায়ে অবসরভোগী পেনশনধারীদের জীবনযাত্রার মান এবং বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের নিট পেনশন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হবে ৭৫ শতাংশ।

একইভাবে ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে।

সরকার মনে করছে, এর ফলে দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম নিট পেনশন পাওয়া অবসরভোগীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন।

প্রথমবার প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগের ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতদিন শুধু ৫ম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা প্রযোজ্য ছিল। নতুন জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী এখন সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন।

দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন

নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও এটি একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে না। বেতনস্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সংশ্লেষ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকার ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ এই দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্বল্প আয়ের সরকারি কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর আওতায় ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ধাপভিত্তিক নিট পেনশন বৃদ্ধির ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

সরকারের যুক্তি, একবারে পুরো বেতনস্কেল বাস্তবায়ন করলে বাজারে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ এবং মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তাই পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপও প্রশমিত করা সম্ভব হবে।

বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতনস্কেল

জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতনস্কেল অনুমোদন করা হবে। জুডিশিয়াল সার্ভিসের নতুন বেতনস্কেলও জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর মতো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।

উপকৃত হবেন প্রায় ৩৩ লাখ

নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।

এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের সংস্থান মিডিয়াম টার্ম বাজেট ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে রাখা হয়েছে।

সরকার মনে করছে, নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়বে। একই সঙ্গে দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনা দেবে অর্থ বিভাগ

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। এসব প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনায় বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত বিধান উল্লেখ থাকবে। অনুমোদিত বেতনস্কেল যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  নবম বেতন কাঠামো   বাস্তবায়ন   তিন ধাপ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close