ভালো কাজের আশায় বিদেশে পাড়ি দিয়ে শেষ পর্যন্ত লাশ হয়ে দেশে ফিরছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার যুবক আছিফ খান (২৮)। দালালের প্রতারণার শিকার হয়ে মরক্কোর বদলে কম্বোডিয়ায় গিয়ে কর্মস্থলে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। সেখানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মারা যান এই রেমিট্যান্সযোদ্ধা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে আছিফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার বাবা আলী হোসেন মোল্লা। তিনি জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কর্চাডাঙ্গা গ্রামের লাইনপাড়ার বাসিন্দা।
কম্বোডিয়ায় দুর্ঘটনার শিকার আছিফ খান
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংসারের অভাব দূর করার পাশাপাশি মা-বাবার মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল আছিফের। সেই আশায় ছয়-সাত মাস আগে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্থানীয় দালাল খলিলের সহযোগী আদম ব্যবসায়ী জাকির হোসেন তাকে ভালো চাকরির আশ্বাস দেন। পরিবারের দাবি, আছিফকে মরক্কো পাঠানোর কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়।
বিদেশে যাওয়ার পরও প্রতিশ্রুত কাজ পাননি আছিফ। প্রবাসজীবনের দেড় মাসের মাথায় ইলেকট্রনিকসের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কম্বোডিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি তাকে।
আছিফের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো পরিবারে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন বাবা আলী হোসেন মোল্লা ও মা আছিয়া বেগম। শেষবারের মতো সন্তানের মুখটি দেখার অপেক্ষায় দিন কাটছে তাদের।
ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে এরই মধ্যে ঢাকায় গিয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন করেছেন বাবা আলী হোসেন মোল্লা। সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও আছিফের নিথর দেহ দেশে এসে পৌঁছায়নি।
সন্তান হারানোর শোকে কাতর মা আছিয়া বেগম বলেন, “আমাদের ছেলে আর কোনোদিন জীবিত হয়ে ফিরবে না। আল্লাহ আমাদের সেই সুখ দেননি। তবে শেষবারের মতো ছেলের মুখটা দেখতে চাই। সরকারের কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ—আমার ছেলের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে এনে দেওয়া হয়।”
আছিফের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারটি।
স্বজনদের প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আছিফের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখে তাকে নিজ গ্রামের মাটিতে দাফন করতে পারবেন শোকাহত বাবা-মা—এটাই এখন তাদের একমাত্র চাওয়া।