কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় গাছে গাছে মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের নাম-ঠিকানা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় যুবসমাজ। মাদকের বিস্তার রোধ এবং মাদকসংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাইঘর উত্তরপাড়া এলাকায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ব্রাহ্মণপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। এতে এলাকার অনেক তরুণ মাদকে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ তাদের। মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে নাইঘর উত্তরপাড়ার যুবসমাজ মাদকসেবী ও বিক্রেতা হিসেবে অভিযুক্ত ১১ জনের নাম, বাবার নাম ও বাড়ির ঠিকানা উল্লেখ করে গাছে পোস্টার ঝুলিয়ে দেন।
ওই পোস্টারে উল্লেখ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ এনে তাদের থেকে সমাজকে রক্ষায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যুবসমাজের সদস্যরা।
এ বিষয়ে নাইঘর উত্তরপাড়ার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সচেতন যুবক বলেন, মাদকের কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও এতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, মাদকের অর্থ জোগাড় করতে এলাকায় ছোটখাটো চুরির ঘটনাও বেড়েছে। পুকুরের মাছ, পানির পাম্প, টিউবওয়েল, বৈদ্যুতিক তার, মুঠোফোন ও টাকা-পয়সা চুরির অভিযোগও রয়েছে।
তারা বলেন, মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এলাকার কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, কিছু উঠতি বয়সের তরুণ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। আবার কেউ কেউ মাদক বিক্রির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের কারণে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। মাদকসংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
স্থানীয় যুবকদের দাবি, গাছে মাদকসেবী ও কারবারি হিসেবে অভিযুক্তদের নাম-ঠিকানা ঝুলিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য কাউকে হেয় করা নয়; বরং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা এবং অভিযুক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করা। পাশাপাশি প্রকৃত মাদকসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
কেকে/সাশ