‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে একসাথে’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকার সিটি কনভেনশন হল, আলমগীর হোসেন সিটিতে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), কিশোরগঞ্জের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), কিশোরগঞ্জের সভাপতি স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর আতিকুর রহমান, মো. মাহা-উল হক, অধ্যাপক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল গণি, সনাক’-এর সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু, নিরাপদ সড়ক চাই জেলা শাখার সভাপতি ও সাবেক ব্যাংকার ফিরোজ উদ্দিন ভূঞা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদা বেগম, অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম, সাংবাদিক মনিরুজ্জামান চৌধুরী সোহেলসহ সনাক, ইউইডস ও এসিজির সদস্যরা।
সভায় স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকায় পরিচালিত দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে মতামত দেন।
সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু বলেন, “দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে শুধু আলোচনা নয়, বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে। নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা সৃষ্টি, নাগরিকদের সরকারি সেবা গ্রহণে সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।”
সভাপতি স্বপন কুমার বর্মন বলেন, “দুর্নীতি একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি প্রতিরোধে শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
অধ্যাপক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল গণি বলেন, “দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত তৈরি এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।”
ঢাকা ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর আতিকুর রহমান বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। সাধারণ মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস তৈরি করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে।”
সভায় সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সমাজের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে ভবিষ্যতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সভায় অংশগ্রহণকারীরা।
কেকে/সাশ