ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রতিনিধির তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) মস্কোয় অনুষ্ঠিত এ বৈঠককে ‘অত্যন্ত কার্যকর’ বলে উল্লেখ করেছে ক্রেমলিন। তবে আলোচনায় কোনো বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ক্রেমলিনের প্রেসিডেন্টবিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, মার্কিন প্রতিনিধিদের স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতার বিভিন্ন পথ নিয়ে বেশ কিছু ধারণা তুলে ধরেছেন। তবে সেসব প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।
উশাকভ বলেন, বৈঠকে ইউক্রেন সংকট সমাধানের সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বড় প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তার ভাষায়, বৈঠকটি সময়োপযোগী এবং উভয় পক্ষের জন্য অত্যন্ত উপকারী ছিল।
বৈঠকে পুতিন রাশিয়ার সামরিক অগ্রগতির দাবি করেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ‘বাস্তব অগ্রগতি’ করছে এবং নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে তারা আত্মবিশ্বাসী।” একই সঙ্গে সংঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই রাশিয়া সংঘাতের মূল কারণ সমাধানের কথা বলে আসছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই দূরপাল্লার বিমান হামলা জোরদার করেছে। তবে যুদ্ধের সম্মুখসারিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি।
ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রশংসা পুতিনের
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। বৈঠকের শুরুতে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ট্রাম্প যুদ্ধের অবসানে সহায়তা করতে এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে ভূমিকা রাখতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।”
শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, “যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি নতুন প্রস্তাব রয়েছে। তবে প্রস্তাবটির বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।”
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের আলোচনা ছিল ‘গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ’। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
উইটকফ ও কুশনার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে মস্কো সফর করেন। জানুয়ারির পর এটি ছিল তাদের প্রথম মস্কো সফর। বৈঠক শেষে তারা মস্কো ত্যাগ করেন এবং রোববার কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুতিনের বিনিয়োগবিষয়ক দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ ও উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ। দিমিত্রিয়েভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বৈঠকটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ শান্তি প্রচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে মার্কিন প্রতিনিধিদের মস্কো সফরকে কেন্দ্র করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন পুতিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছিলেন, প্রতিনিধিদের সফরের সময় মস্কোয় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুতিন রুশ সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি তাদের সফর উপলক্ষে তিন দিনের জন্য কিয়েভে হামলা না চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।
সূত্র: রয়টার্স
কেকে/সাশ