শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● বনানীর বহুতল ভবনে আগুন      ● টিকাদানকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপি ও পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা : ডিএমপি      ● বাংলাদেশিদের জন্য হঠাৎ মার্কিন দূতাবাসের জরুরি সতর্কবার্তা      ● গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক, আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক অর্ধশতাধিক      ● জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে সরকার কঠোর হতে বাধ্য হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      ● প্রথম দফায় বাদ পড়া শিশুদের জন্য দ্বিতীয় দফায় হাম টিকাদান শুরু      ● আওয়ামী লীগের দোসরদের আইনের আওতায় আনলে পুরস্কার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      
আন্তর্জাতিক
৯ দিন অন্ধকার সুড়ঙ্গে, মন্ত্র পাঠই ছিল ভরসা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১১ পিএম আপডেট: ০৬.০৯.২০২৬ ১২:২০ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

চারদিকে শুধু অন্ধকার। মাথার ওপরে পাহাড়ের ভারী পাথর আর ধ্বংসস্তূপ। বাইরে কী ঘটছে, বেঁচে আছেন কি না—কিছুই জানার উপায় নেই। এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে টানা নয় দিন সুড়ঙ্গের ভেতর আটকে থেকেও হাল ছাড়েননি নেপালের সঞ্জয় শাহ। অবশেষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই যান্ত্রিক ফোরম্যান।

উদ্ধারের পর মুখে অক্সিজেন মাস্ক, শরীরে কাদামাটি আর ক্লান্তির ছাপ। স্ট্রেচারে শুয়ে সেনা কর্মকর্তাদের কাছে নিজের সেই ভয়ংকর নয় দিনের কথা জানান শাহ। নেপাল কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমার দায়িত্ব ছিল সবার জীবন বাঁচানো। এত বড় দুর্ঘটনার সময় আমার পালিয়ে যাওয়া ঠিক হতো না।”

শাহ তখন ছিলেন ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গের কন্ট্রোল রুমে। সেখানে সাধারণত চার থেকে ছয়জন কর্মী থাকেন। কিন্তু সেদিন সেখানে ছিলেন প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন।

দুর্যোগের খবর পাওয়ার পর তিনি অন্যদের দ্রুত সরে যেতে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু সবাইকে নিরাপদে বের করে দেওয়ার আগেই পাহাড় ধসে পথ বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত নিজেই আটকা পড়েন অন্ধকার সুড়ঙ্গে।

একসময় হয়তো মনে হয়েছিল, আর কেউ তাকে খুঁজে পাবে না। তবু আশা ছাড়েননি শাহ। নয় দিন ধরে সেই অন্ধকারের মধ্যেই প্রার্থনার মন্ত্র পাঠ করে নিজেকে সাহস জুগিয়েছেন। সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা আরও তিন-চারজন শ্রমিকের সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগও রাখতে সক্ষম হন তিনি। পাহাড়ের আরও গভীরে অন্য শ্রমিকরা আটকে থাকতে পারেন বলেও জানান শাহ।

অবশেষে উদ্ধারকর্মীরা যখন তাকে খুঁজে পান, তখনও তিনি জীবিত। কাদায় ঢাকা মুখে ক্লান্তির ছাপ, কিন্তু ফিরে আসার স্বস্তি যেন স্পষ্ট। নেপালি সেনাবাহিনীর প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, একজন শ্রমিক তাকে পিঠে করে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে বাইরে নিয়ে আসছেন।

সঞ্জয় শাহ ও যান্ত্রিক সুপারভাইজার কবির মহারজন ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া প্রথম দুই শ্রমিক। দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর অন্য একটি সুড়ঙ্গ থেকেও একটি ছোট দল বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল।

ধ্বংসস্তূপের নিচে নয় দিন কাটিয়ে সঞ্জয় শাহর ফিরে আসা তাই শুধু একজন শ্রমিকের বেঁচে যাওয়ার গল্প নয়—এটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেও মানুষের আশা, দায়িত্ববোধ আর বেঁচে থাকার অদম্য আকাঙ্ক্ষার এক বিরল গল্প।

সূত্র: রয়টার্স

কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  নেপাল ভূমিধস  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close