কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় মুদি দোকানের আড়ালে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে হক মিয়া (৫০) নামে এক মুদি দোকানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিনব কৌশলে মাথায় পরা টুপির ভেতরে ইয়াবা লুকিয়ে রাখতেন তিনি। অভিযান চালিয়ে ওই টুপির ভেতর থেকে ১৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের নদনা খন্দকার বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন একটি মুদি দোকানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হক মিয়া বনগ্রাম ইউনিয়নের নদনা গ্রামের মৃত ইদ্রিছ আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মুদি ব্যবসা করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুদি দোকানের ব্যবসার আড়ালে হক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি করে আসছিলেন—এমন অভিযোগ ছিল পুলিশের কাছে। সম্প্রতি গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পারে, দোকানে বসেই কৌশলে ইয়াবা বিক্রি করছেন তিনি। তবে ইয়াবা দোকানে না রেখে নিজের মাথায় পরা টুপির ভেতরে লুকিয়ে রাখতেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য আসে।
এরই ভিত্তিতে শনিবার রাতে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি দল নদনা খন্দকার বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন ওই মুদি দোকানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় হক মিয়াকে আটক করে তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে তার মাথায় থাকা টুপির ভেতর থেকে ১৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা নিয়ে নানা অভিযোগ শুনে আসছি। মুদি দোকানের মতো একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে যদি সত্যিই মাদক বিক্রি হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। বিশেষ করে আশপাশে বসতবাড়ি ও সাধারণ মানুষের চলাচল রয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা উদ্ধার ও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে—এতে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। তবে মাদকের সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
পুলিশের ভাষ্য, মাদক বিক্রির অভিযোগ থেকে নিজেকে আড়াল করতে হক মিয়া অভিনব এই কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। দোকানে ইয়াবা মজুত না রেখে মাথার টুপির ভেতরে রাখায় সাধারণ তল্লাশিতে বিষয়টি সহজে ধরা পড়ত না বলে ধারণা করছে পুলিশ।
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “হক মিয়ার মুদি দোকানটি ছিল মাদক ব্যবসার আড়াল। তিনি কৌশলে টুপির ভেতর ইয়াবা রেখে বিক্রি করতেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হক মিয়ার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
কেকে/সাশ