বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় বসবাস ও সহাবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন ফেনী জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মহি উদ্দিন মহিন। তার এমন বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আমিরাবাদ ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামে কলম স্পোটিং ক্লাবের আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাইক্রোফোন হাতে বক্তব্য দেন মহি উদ্দিন মহিন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় বসবাসের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তার বক্তব্যকে অনেকেই বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও দলের নেতাকর্মীদের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করছেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির মঞ্চে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন বা তাদের সঙ্গে নিয়ে চলার বার্তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
তাদের বক্তব্য, দলীয় কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দিলে তা শুধু ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এর সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে আপস বা তাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়ার আগে দলের সাংগঠনিক অবস্থান ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এমন বক্তব্য দেওয়ায় বিষয়টি দলীয় শৃঙ্খলার আওতায় তদন্ত করে দেখা উচিত।
এ দিকে মহি উদ্দিনের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ বলছেন, বক্তব্যটি যদি ভিডিওতে প্রচারিত বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, বিএনপির সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষ ভিডিওটি পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
এ ঘটনায় সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন বাবলু দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আমিরাবাদ ইউনিয়নে কমল স্পোর্টিং ক্লাবে সাবেক ফেনী জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মহি উদ্দিন মহিনের দেওয়া বক্তব্যে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় বসবাস করার ঘোষণা দেওয়া। এটি দলীয় নেতাদের বক্তব্য হতে পারে না। এমন বক্তব্য দিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তার এমন বক্তব্য আমাদেরও বিব্রত করেছে। এটি দলীয় বক্তব্যও নয়।’
নাম না প্রকাশ করা শর্তে কয়েকজন স্থানীয় নেতা জানান, মহি উদ্দিন মহিন বিগত ১৭ বছর বিএনপির দুর্দিনে আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ তো দূরে থাক স্থানীয় রাজনীতিতে তার কোন ভূমিকা দেখা যায়নি। বরং ঢাকায় অবস্থান করে আত্মগোপনে ছিলো সে। ৫ আগস্টের পর অতিথি পাখির মতো উড়ে গ্রামে এসে এখন বড় নেতা হয়েছেন। দলের হাইকমান্ডের উচিত বিগত সময়ে যারা কোনো আন্দোলন সংগ্রামে ছিলো না তাদের চিহ্নিত করে দলের বাহিরে রাখা উচিত। এদের কারণে দল আজ বিতর্কিত হচ্ছে। তিনি ইতিমধ্যে দলের অনুমতি না নিয়ে আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তার উশৃংখল কর্মীদের দিয়ে আনারস মার্কার প্রচারণাও শুরু করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আফসার টিপু ফেসবুক লাইভে এসে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নেতাদের চাপ সামলাতে না পেরে পুনরায় ফেইসবুক লাইভে এসে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং অসুস্থ থেকে বক্তব্য দিয়েছেন, ফেসবুকে দেওয়া তার দেওয়া বক্তব্য সঠিক হয়নি বলেও ক্ষমা চেয়ে নেন। বিষয়টি নিয়ে ফেনী জেলা জুড়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা।
কেকে/এআই