সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: গণতন্ত্রের জন্য সমঝোতার রাজনীতি করতে হবে : রাষ্ট্রপতি      দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ এক লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা      ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৮৮      ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      নদীদখল ও দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর      গোপালগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩      জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ      
খোলাকাগজ স্পেশাল
মুক্তবাণিজ্য চুক্তির পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ এএম

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সহজ ও সম্প্রসারিত করতে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। ইইউ কর্তৃক চিহ্নিত ৬১টি শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধার (নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার) মধ্যে ৪৮টির সমাধান করেছে বাংলাদেশ। বাকি বাধাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। 

একইসঙ্গে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিমূলক আলোচনা শুরুর পথও তৈরি হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে গতকাল রোববার আয়োজিত এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত মার্চে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরে। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই মধ্যে ৬১টি বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।

যেসব বাণিজ্য বাধার সমাধান

সমাধান হওয়া বাধাগুলোর মধ্যে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন লজিস্টিক কোম্পানির লাইসেন্স নবায়নসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন অন্যতম। এর ফলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশের লজিস্টিকস খাতে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বাধা দূর হয়েছে।

এ ছাড়া বাণিজ্যিক স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা ১০ হাজার মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলার করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশে পণ্য পরীক্ষা, বাজার যাচাই ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সুযোগ বাড়বে।

রপ্তানি পণ্যের ট্রেসিবিলিটি নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত স্ক্যানিং স্মার্ট কার্ডের শুল্কায়ন জটিলতাও দূর করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব কার্ডের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রপ্তানি পণ্যের উৎস ও সরবরাহ শৃঙ্খল সম্পর্কে তথ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এফটিএ আলোচনায় ইইউর ইতিবাচক সাড়া

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তাবেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এফটিএ ও ইনভেস্টমেন্ট প্রোটেকশন অ্যাগ্রিমেন্টের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পর ইউরোপীয় কমিশন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইইউর সদস্য দেশগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলে চলতি সপ্তাহ থেকেই দুপক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে যৌথ কারিগরি আলোচনা শুরু হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে হলে স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে উভয়পক্ষই লাভবান হবে।

ইইউ রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বিমান চলাচল ও বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেন। এ ক্ষেত্রে এয়ারবাস ক্রয়ের বিষয়ে চলমান আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

এলডিসি উত্তরণে ইইউর সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

এদিকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে সরকার।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি (সিডিপি) এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) সুপারিশ ইতিবাচকভাবে এসেছে। আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শক্তিশালী সমর্থন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এলডিসি উত্তরণপরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি সুবিধা অব্যাহত রাখা এবং নতুন বাণিজ্য কাঠামো তৈরি করা এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমদানি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবসময় জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনা করেই আমদানি সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি বলেন, জ্বালানি, বিশেষ করে এলএনজি এবং খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, পণ্যের গুণগত মান ও অপচয়ের হার বিশ্লেষণ করে সরকারি ক্রয় কমিটি সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রভাব দ্বারা পরিচালিত নয়। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণই আমদানি ও বাণিজ্যসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।

রপ্তানি ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি রয়েছে। ফলে এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু হলে শুধু শুল্ক সুবিধা নয়, বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে নন-ট্যারিফ বাধা কমানো, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের পর ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সুবিধার সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে একটি দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য কাঠামো গড়ে তোলার গুরুত্ব বাড়ছে। এফটিএ সেই কাঠামো তৈরির অন্যতম মাধ্যম হতে পারে।

অন্যদিকে ৬১টি চিহ্নিত বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান হওয়াকে বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাকি বাধাগুলোও দ্রুত সমাধান করা গেলে দুপক্ষের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার ব্যয় ও জটিলতা আরও কমতে পারে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  মুক্তবাণিজ্য   চুক্তি   বাংলাদেশ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close