কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ভাবিকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আজহারুল ইসলাম মিলন (৪৬) মারা গেছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, রোববার রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
জানা যায়, রোববার রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে কয়েকজন কারারক্ষী অসুস্থ অবস্থায় আজহারুল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৫ জুন সকালে পারিবারিক কলহের জেরে আজহারুল তার বড় ভাই বাবুলের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাসলিমাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর আজহারুল নিজেই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ওই দিন দুপুরের দিকে পাকুন্দিয়া থানায় আত্মসমর্পণ করেন। পরদিন নিহত তাসলিমার ভাই শাহাবুদ্দিন বাদী হয়ে আজহারুলকে একমাত্র আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
নিহত তাসলিমা আক্তার পাকুন্দিয়া সদরের ছয়ছির গ্রামের ফজর আলী ও সৈয়দ বানুর মেয়ে।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ জিয়াউল রাব্বী। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১০ জুন কিশোরগঞ্জের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
কেকে/ এমএস