প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে ধারণ করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ এবং শ্রীমঙ্গলে অত্যন্ত জাঁকঝমকপূর্ণ ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বিশ্ব পর্যটন দিবস।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এ উপলক্ষে স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা, নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সমন্বয়ে দিনব্যাপী নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালিত হয়।
‘শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থা’ ও ‘স্মার্ট ট্যুরিজম’-র যৌথ ব্যবস্থাপনায় শ্রীমঙ্গল শহরে বের করা হয় বর্ণাঢ্য র্যালি। র্যালিটি শহরের চৌমুহনা চত্বর থেকে শুরু হয়ে স্টেশন রোড, ভানুগাছ রোড, গুহ রোড ও কলেজ রোড প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চৌমুহনা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
এ বছর ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ র্যালিতে শ্রীমঙ্গল ট্যুর অপারেটর অ্যান্ড ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশন, স্থানীয় হোটেল-রিসোর্ট, কটেজ, গেস্টহাউস মালিক এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ কামরুল হোসেন চৌধুরীসহ বিপুলসংখ্যক সদস্য অংশ নেন।
আয়োজকদের পক্ষে স্মার্ট ট্যুরিজমের সিইও এম এ রকিব বলেন, ‘প্রকৃতি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব। পরিকল্পিত উপায়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহারের মাধ্যমে এ খাতের বিকাশ ঘটাতে পারলে এ অঞ্চলে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।’
অন্যদিকে ‘ট্যুরিজম কমলগঞ্জ’-র উদ্যোগে কমলগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এতে স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। র্যালি শেষে মণিপুরী সম্প্রদায়ের শিল্পীরা পরিবেশন করেন তাদের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও নৃত্য।
উদ্যোক্তারা জানান, এর মাধ্যমে চা-কন্যার দেশ কমলগঞ্জের পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার এক দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ধরে রেখে পর্যটনের নতুন দিনবদলের প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয় দিনের নানা অনুষ্ঠানমালা
কেকে/এআই