সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩-এ চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ার প্রতিবাদে নীলফামারীতে মানববন্ধন করেছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে নিয়োগ জট নিরসন ও দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন দেন প্রার্থীরা। এতে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত মো. নুরুদ্দীনসহ বঞ্চিত প্রার্থীরা স্বাক্ষর করেন।
আবেদনে প্রার্থীরা জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ধাপ সম্পন্ন করে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে তারা নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ, নেতিবাচক ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন বা অযোগ্যতার কারণ লিখিতভাবে জানানো হয়নি বলে দাবি তাদের।
প্রার্থীদের অভিযোগ, একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্যরা নিয়োগপত্র পেলেও তাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বঞ্চিত হওয়ার কারণ স্পষ্ট করা, পুলিশ বা এনএসআই ভেরিফিকেশনে কোনো নেতিবাচক তথ্য থাকলে তা জানানো এবং অযোগ্যতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, নীতিমালা বা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পাশাপাশি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য সময় দেওয়ারও দাবি করেন তারা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নীলফামারীতে সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৬১ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। ভেরিফিকেশন শেষে তাদের অধিকাংশ নিয়োগপত্র পেলেও ৫২ জন প্রার্থী এখনো নিয়োগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘প্রার্থীদের আবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর করা হবে। পর্যায়ক্রমে তাদের নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
সুপারিশপ্রাপ্ত বঞ্চিত প্রার্থীরা আশা প্রকাশ করছেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র বুঝিয়ে দেবে।
কেকে/এআই