বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে নাকাল গ্রাহক, বিব্রত সরকার      জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির শপথ নিলেন খলিলুর রহমান      ‘আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে’—মন্তব্য ঘিরে আপিল বিভাগে যা ঘটল      ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৯ জনের      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৯৯৯      প্রাথমিকের ১৪৩৮৪ সহকারী শিক্ষকের যোগদান ১ অক্টোবর      ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে নাকাল গ্রাহক, বিব্রত সরকার
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০১ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

বিদ্যুতের ব্যবহার না বাড়লেও বাড়ছে বিল। কোথাও এক মাসের ব্যবধানে বিল বেড়েছে দ্বিগুণ, তিনগুণ; কোথাও সাত গুণেরও বেশি। এমনকি মিটারে সংযোগ দেওয়ার আগেই বিল তৈরি এবং দুই বাতি ও এক ফ্যানের ঘরে আড়াই কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল আসার ঘটনাও ঘটেছে। গ্রাহকদের ভাষায়, এগুলো ‘ভুতুড়ে বিল’। আর এই ভুতুড়ে বিলের মাশুল দিতে গিয়ে নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে এমন অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগ করে আসছেন গ্রাহকরা। কিন্তু অভিযোগের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বরং একের পর এক নতুন ঘটনা সামনে আসছে। কোথাও মিটার রিডিংয়ে ভুল, কোথাও মাঠে না গিয়ে অনুমাননির্ভর বিল তৈরির অভিযোগ, আবার কোথাও মিটারের ত্রুটিকে অস্বাভাবিক বিলের কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাঠপর্যায়ে মিটার রিডারের তীব্র জনবল সংকট।

ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাড়ছে অবিশ্বাস। আর ঘনঘন লোডশেডিংয়ে যখন দেশজুড়ে জনজীবনে অস্বস্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তখন অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। গত কয়েক মাস ধরে চলা বিদ্যুৎ সংকটের কোনো কার্যকর সমাধান না মেলার মধ্যেই বিল নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে বিব্রত হচ্ছে সরকারও।

সাম্প্রতিক একটি ঘটনার সূত্র ধরে গাজীপুরের গাছা এলাকায় সরেজমিন অনুসন্ধানে নামে খোলা কাগজ। সিফাত নামে এক যুবকের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যদিও তদন্তের পর গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ জানিয়েছে, সিফাতের দাবি ভুয়া ও সত্য নয়; তবে স্থানীয় গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ যে পুরোপুরি ভিত্তিহীন নয়, সরেজমিনে তার ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে।

গাছা থানাধীন দক্ষিণ খাইলকুর এলাকার একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে অনেকের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কারও বিল বেড়েছে দ্বিগুণ, কারও তিনগুণ। আবার কারও ক্ষেত্রে এক মাসের ব্যবধানে বিল বেড়েছে সাত গুণেরও বেশি।

গাছা থানাধীন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রোকেয়া পারভীনের মিটার নম্বর ১০৬৯০২-২৬৫-৪০২২। বিদ্যুৎ বিলের নথি অনুযায়ী, জুলাই মাসে তার বিল ছিল ৫০১ টাকা। আগস্টে একই মিটারে বিল দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬১৪ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে বিল বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ২ গুণ। রোকেয়া পারভীনের দাবি, দুই মাসে তার বিদ্যুৎ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাড়িতে নতুন কোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও যুক্ত হয়নি। তারপরও হঠাৎ করে বিল এতটা বেড়ে যাওয়ায় তিনি বিস্মিত।

একই এলাকার বাসিন্দা মো. শাহ আলমের জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল ছিল ৪ হাজার ৪৬১ টাকা। আগস্টে একই মিটারে বিল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১১৬ টাকা। একই এলাকার আরেক বাসিন্দা অরুনা বেগমের মিটার নম্বর ১০৬৯০২-২৬৫-৪০১০। বিদ্যুৎ বিলের নথি অনুযায়ী, জুলাই মাসে তার বিল ছিল ১ হাজার ৬৮০ টাকা। আগস্টে তা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৪৯৩ টাকা। তিনি জানান, জুলাইয়ের পর থেকেই তার বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে। অথচ বাড়িতে নতুন কোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যুক্ত করেননি।

শুধু রোকেয়া পারভীন, শাহ আলম বা অরুনা বেগম নন— এলাকার আরও কয়েকজন গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকলেও বিলের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। গাছার এই চিত্র অবশ্য বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায়ও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে এমন অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি হলো, অনেক ক্ষেত্রে মিটার রিডাররা সরেজমিনে মিটার না দেখেই বিল তৈরি করছেন। ফলে প্রকৃত ব্যবহারের সঙ্গে বিলের হিসাবের অসঙ্গতি তৈরি হচ্ছে। কখনো অনুমাননির্ভর রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এর পেছনে বড় একটি কারণ মাঠপর্যায়ের জনবল সংকট। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ২ হাজার গ্রাহকের জন্য একজন মিটার রিডার থাকার কথা। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় মিটার রিডার কম থাকায় একজন কর্মীকেই ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার গ্রাহকের বিল তৈরি ও বিতরণের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মিটারের রিডিং নিতে গিয়ে কর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে মে, জুন ও জুলাই মাসে এ সমস্যা আরও বেশি দেখা দেয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে বাড়ছে বিলসংক্রান্ত জটিলতা।

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ডবাজার জোনাল অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা খোলা কাগজকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ নিয়ে যে অভিযোগ সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে মাঠের জনবল সংকটটা বাস্তব সমস্যা। এটা শুধু গাজীপুরের সমস্যা না। সারা দেশেই এ সংকট আছে। বিষয়টা আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত জনবল দেওয়া দরকার। এ ঘাটতি নিয়ে সামনে চলা কঠিন হবে।’

দায়িত্বে গাফিলতির দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে তাকে সাময়িকভাবে বসিয়ে রাখা যায়। কিন্তু তখন যে কাজটা সে করত, সেটা করবে কে? জনবল এমনিতেই কম। তাই অনেক ক্ষেত্রে সতর্ক করা হয়, ওয়ার্নিং দেওয়া হয়। কাজটা ঠিকভাবে করার জন্য বারবার বলা হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যারা মাঠে কাজ করি, তারাও চাপের মধ্যে থাকি। গ্রাহকের অভিযোগ আমাদেরই শুনতে হয়। অফিসেও কাজের চাপ থাকে। ফলে কোথাও একটা ভুল হলে সেটার প্রভাব মাঠ পর্যায়েই এসে পড়ে।’

সমস্যার সমাধানে বড় পরিসরে উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ সমস্যাগুলো বড় পরিসরে বসে সমাধান করা দরকার। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কতজন কর্মী দরকার, কতজন আছে এবং প্রতিদিনের কাজের তুলনায় এ জনবল যথেষ্ট কি না, সেটা নতুন করে যাচাই করা দরকার। এ বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। আর দীর্ঘমেয়াদে জনবল সংকটের সমাধান না করলে এ ধরনের সমস্যা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।’

ভুতুড়ে বিলসহ বিদ্যুৎ বিলের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ডবাজার জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আহসান কবির খোলা কাগজকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে সব বিল ভুল, বিষয়টা এমন না। তবে কোথাও কোনো অভিযোগ থাকলে আমরা তা আমলে নিয়ে সমাধান করছি।’

বোর্ডবাজার জোনাল অফিসের অধীনে কত হাজার বিদ্যুৎগ্রাহক ও কতজন মিটার রিডার রয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘৯১ থেকে ৯২ হাজার গ্রাহক আছেন এবং ২৯ জন মিটার রিডার আছেন। ফলে একজনকে কর্মীকে প্রায় ৩ হাজারের বেশি মিটার রিডিং নিতে হচ্ছে। তবুও আমরা চেষ্টা করছি, যেন কোথাও কোনো ঘাটতি না থাকে।’

এই হিসাবই দেখিয়ে দেয়, নির্ধারিত অনুপাতে মিটার রিডার না থাকায় একজন কর্মীর ওপর কতটা বাড়তি দায়িত্ব চাপছে। আর সেই চাপের প্রভাব যদি মিটার রিডিং ও বিল তৈরিতে পড়ে, তাহলে তার সরাসরি মাশুল দিতে হচ্ছে গ্রাহককে।

তবে সব অস্বাভাবিক বিলের দায় মিটার রিডারের ওপর দিতে নারাজ বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, মিটারের ত্রুটির কারণেও অস্বাভাবিক বিল হতে পারে। ভুতুড়ে বিল প্রসঙ্গে মো. আহসান কবির বলেন, ‘মিটারের সমস্যার কারণেও ভুতুড়ে বিল হতে পারে। কোনো কোনো মিটারের সার্কিট নষ্ট হলে অস্বাভাবিক পালস দিতে পারে। মিটারে ত্রুটি থাকার কারণে অনেকসময় ২ ডিজিটের রিডিং কয়েক ডিজিট লাফ দিয়েও বেড়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে রিডার এবং গ্রাহক উভয়কে সচেতন হতে হবে। যদিও এখন আগের চেয়ে সচেতনতা বেড়েছে। বিল একটু বেশি হলেই তারা যাচাই করতে আসছেন। এটা ভালো দিক, কোনো বিল অস্বাভাবিক মনে হলে আমরা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি।’

কর্তৃপক্ষের এ ব্যাখ্যা যদি মেনে নেওয়া হয়, তাহলেও প্রশ্ন থেকে যায়—মিটারের ত্রুটি শনাক্ত ও দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? কারণ, অস্বাভাবিক বিল হাতে পাওয়ার পর একজন গ্রাহককে যদি নিজেকেই অফিসে গিয়ে অভিযোগ করতে হয়, তাহলে ভুলের দায়ভার শেষ পর্যন্ত কেন গ্রাহকের ওপরই বর্তাবে?

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম. শামসুল আলম। খোলা কাগজকে তিনি বলেন, ‘ইউটিলিটিগুলো বা সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিষয়টিকে আমলে নিচ্ছে না। এটাই সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। যাদের কাছে অভিযোগ করা হচ্ছে, তারাই আবার সেই অভিযোগের সমাধান দিচ্ছে। অথচ অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা। এখনো সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে না। সরকারি পর্যায়েও এ বিষয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই।’

তার মতে, বিষয়টি এখন আর নিছক বিলসংক্রান্ত সমস্যা নয়। তিনি বলেন, ‘অথচ বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত। কারণ, এটি এখন মৌলিক জনঅধিকার ও জনস্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ইস্যু হয়ে গেছে।’ অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘অভিযোগের একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া আছে। সেই প্রক্রিয়ায় অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সেই অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এক ধরনের অবহেলাও করা হচ্ছে।’

এ অবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা রাখার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘এ অবস্থায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিও বিষয়টি আমলে নিতে পারে। তাদের এটি আমলে নেওয়া উচিত।’

বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিকতার পেছনে একাধিক কারণের কথা বলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে মাঠপর্যায়ে মিটার রিডারের সংকট, বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের বিপরীতে অল্পসংখ্যক কর্মী, মিটারের কারিগরি ত্রুটি এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ।

কিন্তু এসব কারণের কোনোটিই গ্রাহকের অস্বাভাবিক বিলের দায় মেটায় না। কারণ, বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন যতটুকু, বিল দেওয়ার কথা ততটুকুরই। মিটার রিডিং ভুল হলে, মিটার নষ্ট হলে কিংবা মাঠে না গিয়ে অনুমাননির্ভর বিল তৈরি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনার।

গাছার এক মাসের ব্যবধানে ৫০১ টাকা থেকে ৩ হাজার ৬১৪ টাকা বিল হয়ে যাওয়া গ্রাহকের প্রশ্ন তাই সরল—বিদ্যুৎ ব্যবহার না বাড়লে বিল এতটা বাড়ল কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে শুধু গ্রাহককে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিলেই হবে না। প্রয়োজন মিটার রিডিংয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, ত্রুটিপূর্ণ মিটার দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিস্থাপন এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা।

কারণ, ‘ভুতুড়ে বিল’ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ভুলের গল্প নয়। একের পর এক অভিযোগ, অস্বাভাবিক বিলের নথি এবং মাঠপর্যায়ের জনবল সংকট মিলিয়ে এটি বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতার দিকেই ইঙ্গিত করছে। দীর্ঘদিনের এই অভিযোগের কার্যকর সমাধান না হলে বিদ্যুৎ সংকটের সঙ্গে গ্রাহকের ক্ষোভের আরেকটি বড় কারণ হয়ে উঠবে এই ভুতুড়ে বিলই।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ   গাফিলতি   সরকার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close