বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে নাকাল গ্রাহক, বিব্রত সরকার      জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির শপথ নিলেন খলিলুর রহমান      ‘আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে’—মন্তব্য ঘিরে আপিল বিভাগে যা ঘটল      ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৯ জনের      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৯৯৯      প্রাথমিকের ১৪৩৮৪ সহকারী শিক্ষকের যোগদান ১ অক্টোবর      ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
অপ্রতুল লাইফ গার্ডে অনিরাপদ সমুদ্রস্নান
মো. নেজাম উদ্দিন, কক্সবাজার
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৮ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

কক্সবাজারে প্রতিদিন লাখো পর্যটক আসে। বিশেষ করে ছুটির দিন এ পর্যটকের সংখ্যা কয়েক গুণ। আর এই কয়েক লাখ পর্যটক সমুদ্রসৈকতের পানিতে নামার নিরাপত্তায় কাজ করছে মাত্র ২৮ জন কর্মী। বালিয়াড়িতে যেসব ওয়াচটাওয়ার রয়েছে তাও পর্যটক অনুযায়ী অপ্রতুল। তাই দীর্ঘদিন ধরে লাইফ গার্ড ও ওয়াচটাওয়ার দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতে অপর্যাপ্ত লাইফ গার্ড হওয়ার কারণে ঝুঁকি থেকে যায়। কক্সবাজারে বেশ কয়েকটি পয়েন্ট রয়েছে। এর মধ্যে পর্যটকের ভিড় থাকে সুগন্ধা, লাবণী, সি ক্রাউন পয়েন্টসহ আরও কয়েকটি পয়েন্টে। কিন্তু লোকবল কম থাকায় এসব পয়েন্টের নিরাপত্তা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। 

এদিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে বারবারই ঘটছে দুর্ঘটনা। অনেক সময় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। গত ১১ মার্চ সকালে গোসল করতে নেমে মারা যান রামু কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইদুল হোসেন বাপ্পী। পরিসংখ্যান বলছে, গত ৫ বছরে সৈকতে গোসল করতে নেমে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। আর উদ্ধার করা হয়েছে ৫০০ জনকে। তারপরও সমুদ্রস্নানে পর্যটকের নিরাপত্তায় নেই পর্যাপ্ত লাইফ গার্ড কর্মী ও উদ্ধার সরঞ্জাম। আর প্রচার-প্রচারণা না থাকায় অনেক পর্যটক জানেন না লাল এবং লাল হলুদ পতাকার নির্দেশনা।

সুগন্ধা পয়েন্টে দায়িত্বরত সি সেইফ লাইফ গার্ড সংস্থার কর্মী মোহাম্মদ শুক্কুর বলেন, ‘সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হাজারো পর্যটক সমুদ্রে গোসল করছে সুগন্ধা পয়েন্টে। কিন্তু তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছি মাত্র ৩ জন। এ ছাড়া গোসল করতে আসা মানুষজন লাইফ গার্ড কর্মীদের কোনো নির্দেশনা মানে না। অনেক সতর্ক করি, কিন্তু উল্টো কেউ কেউ গালি দেয়, আবার কেউ কেউ ঝগড়া করে।’

সি সেইফ লাইফ সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে ২৮ জন কর্মী। তারা দুই শিফটে সৈকতের ৩টি পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করে থাকে। এক শিফটে সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ১৩ জন কর্মী আর দ্বিতীয় শিফটে বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অপর ১৩ জন কর্মী। আর তাদের তদারকি করার জন্য থাকে একজন সুপারভাইজার। আর ৩টি পয়েন্টেই লাল এবং লাল হলুদ পতাকা টাঙানো থাকে। লাল পতাকার অর্থ হচ্ছে এই পতাকার মধ্যে গোসল করা নিষেধ আর লাল হলুদ পতাকার অর্থ হচ্ছে এখানে গোসল করা নিরাপদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লাইফ গার্ড কর্মী বলেন, পর্যটন মৌসুম এবং টানা ছুটি হলে সৈকতে লাখো পর্যটকের ঢল নামে। তখন মাত্র ১৩ জন লাইফ গার্ড কর্মী দিয়ে সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হয় না। তারপর চেষ্টা করি, পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে।

বগুড়া থেকে বেড়াতে আসা সিরাজুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে এসেছি শুধু নোনাজলে গোসল করতে। তাই এসেই গোসল করতে নেমে পড়লাম। কোনো নির্দেশনা বা সতর্ক বার্তা দেখার সময় কোথায়।

সি সেইফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র লাইফ গার্ড কর্মী মোহাম্মদ সিরু বলেন, একে তো লাইফ গার্ড কর্মী। তার ওপর নেই পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম। শুধু রয়েছে উদ্ধার বোট ও উদ্ধার টিউব। যা দিয়ে কোনোভাবে পর্যটকদের উদ্ধার করা যায়। আর দুর্ঘটনাকবলিত পর্যটকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য থাকে না গাড়ি। ফলে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। যদি লাইফ গার্ড কর্মীদের দ্রুতগতির উদ্ধার যান ও আধুনিক সরঞ্জাম দেওয়া হতো, তাহলে অনেক মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো। 

বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, সমুদ্রসৈকতের নিরাপত্তার জন্য আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  লাইফ গার্ড   অনিরাপদ সমুদ্রস্নান  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close