মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● এ বছর ৪০ লাখ কৃষক পাবেন কৃষি কার্ড : প্রধানমন্ত্রী      ● রাজশাহীতে ৩৮৯৭০ আখচাষিকে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী      ● হামে শিশু মৃত্যু ১২০০ ছাড়াল      ● ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৩৬৬      ● ২৬-২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ার প্রত্যাশা      ● ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, প্রজ্ঞাপন জারি      ● সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে প্রত্যাশিত দেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ভারতের বিদ্যুৎ করিডর বাংলাদেশের মরণফাঁদ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৩ এএম

দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের ওপর দিয়ে ভারতের প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ করিডর বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতে ‘মরণফাঁদ’ হয়ে উঠতে পারে। এ করিডরকে ঘিরে কৃষি জমি, পানি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছে ভারত। তবে এবার সরাসরি সম্মতি না দিয়ে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় চারটি শর্ত সামনে রেখে আলোচনায় এগোতে চাইছে ঢাকা। 

জানা গেছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ মূল ভূখণ্ডে নিতে আসামের বড়ানগর থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর হয়ে বিহারের কাটিহার পর্যন্ত ৭৬৫ কেভি উচ্চ ক্ষমতার সঞ্চালন লাইন বসাতে চায় দেশটি। বাংলাদেশের কাছে এ করিডর পেলে এটা হবে ভারতের জন্য ‘শর্টকাট’ পথ। উদ্যোগটি পুরোনো হলেও আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এরই মধ্যে ভারতীয় পক্ষের নতুন প্রস্তাব ঘিরে প্রকল্পটি ফের সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। 

গত ৬ আগস্ট ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নতুন করে উত্থাপন করেন। এর আগে জুলাইয়ের শেষদিকে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ দিল্লি সফর করেন। সফরে তিনি ভারতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। 

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওই বৈঠকগুলোতেও প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ সঞ্চালন করিডরের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ফলে বিষয়টি এখন দুই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতার আলোচনায় আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

গত আগস্টে দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছিলেন, ‘ভারত বাংলাদেশ দিয়ে গ্রিড লাইন নিতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশ বিষয়টিকে শুধু ভারতের গ্রিড লাইন হিসেবে দেখছে না। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে একটি যৌথ গ্রিডের কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে চায় ঢাকা।’ ভারতের নতুন করে দেওয়া প্রস্তাবের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ বিষয়টি নিয়ে একাধিক নথি প্রস্তুত করেছে। প্রাথমিকভাবে চারটি শর্তকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভারত এসব শর্ত মেনে নিলে বাংলাদেশ প্রস্তাবিত উচ্চ ক্ষমতার সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী, সঞ্চালন লাইনটি ভারতের একটি অংশ থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে আবার ভারতের ভূখণ্ডে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা। অর্থাৎ বাংলাদেশের ভূখণ্ড এখানে মূলত একটি ট্রানজিট বা করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এক বছর আগে প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সম্প্রতি এটি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা হওয়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, পানি সম্পদ ও ভূখণ্ডগত স্বার্থকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৭৬৫ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন করিডর নিয়ে সরকারের অবস্থান দ্রুত স্পষ্ট করা জরুরি। প্রকল্পটি সত্যিই পুনরায় আলোচনায় এসেছে কি না, ২০২৫ সালের বাতিল সিদ্ধান্ত বহাল আছে কি না এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় কী ধরনের শর্ত আরোপ করা হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণের সামনে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। 

বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ মহল বলছেন, ভারতের অরুণাচল প্রদেশসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্রের উজানের বিভিন্ন নদীতে বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পানি প্রবাহ, কৃষি, পরিবেশ ও নদীনির্ভর অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে, সেটি নিয়ে আগেই উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের সুযোগ দিলে ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাজার ও সঞ্চালন অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিশ্চিত করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন। ফলে প্রকল্পটিকে শুধু একটি বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রকল্প হিসেবে না দেখে এর সঙ্গে পানি, পরিবেশ, কৃষি এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও যুক্ত করে মূল্যায়নের দাবি উঠেছে।

জানা গেছে, গত ১১ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদ্যুৎ বিভাগকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য ও মতামত চাওয়া হয়। পরদিন, ১২ আগস্ট, বিদ্যুৎ বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি ইস্যু করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে ভারতের বিহারের কাটিহার থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর হয়ে আসামের বড়ানগর পর্যন্ত ৭৬৫ কেভি উচ্চ ক্ষমতার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের বিষয়টিও ছিল। 

পুরোনো বিতর্ক আবার সামনে : 

এই বিদ্যুৎ করিডর নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এর আগেও আলোচনা হয়েছে। ২০১৮ সালের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনায় বাংলাদেশের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিষয়টি আলোচিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৯-২০ সময়ে কারিগরি পর্যায়েও প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে এর সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, বাংলাদেশের ভাটির স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত হবে এবং পরিবেশগত প্রভাব কী হতে পারে, সেসব বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য বিনিময় এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালের জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে ভারতীয় পক্ষ থেকে সঞ্চালন লাইনটির সঙ্গে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই বলে অবস্থান জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভারতের বিভিন্ন বক্তব্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ মূল ভূখণ্ডে সঞ্চালনের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। ফলে প্রকল্পটির প্রকৃত দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎস নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

ভারতের স্বার্থে ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা : 

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে দেশটির অন্য অংশে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য বাংলাদেশ অংশে প্রস্তাবিত ৭৬৫ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। 

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ প্রকল্পের মূল সুবিধাভোগী ভারত হলেও এর অর্থায়নের ঋণের দায় বাংলাদেশের ওপর পড়বে। ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণে বাংলাদেশ অংশের সঞ্চালন অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। পিজিসিবির সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতি কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার এবং প্রায় ৩০০ কিলোমিটার লাইনে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৯০০ মিলিয়ন ডলার। ফলে ভারতের বিদ্যুৎ পরিবহনের সুবিধা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বোঝা বহন করতে হবে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা ও অর্থনৈতিক প্রয়োজন বিবেচনায় প্রকল্পটির যৌক্তিকতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ও আর্থিক সমীক্ষা জরুরি। 

২০২৪ সালের সম্মতি, ২০২৫ সালের বাতিল : 

প্রকল্পটির ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ২০২৪ ও ২০২৫ সাল। প্রতিবেদনসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তৎকালীন সরকারের সময়ে প্রকল্পটির জন্য প্রাথমিক সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রকল্পটি পুনরায় বিবেচনার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, নাকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি শুধু দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তুতির অংশ, সেটিও সরকারকে স্পষ্ট করা উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

হাজার হাজার একর কৃষি জমি নিয়ে উদ্বেগ : 

প্রস্তাবিত সঞ্চালন লাইন বাংলাদেশের দিনাজপুর ও পার্বতীপুর অঞ্চলের ওপর দিয়ে গেলে কৃষি জমির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ৩ হাজার একরের বেশি উর্বর কৃষি জমি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রকল্পের প্রভাবে পড়তে পারে। 

উচ্চ ক্ষমতার সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার নির্মাণ, রাইট অব ওয়ে এবং নিরাপত্তা এলাকার কারণে জমির স্বাভাবিক ব্যবহার সীমিত হয়ে যেতে পারে। কৃষকরা জমির মালিকানা ধরে রাখলেও সেখানে আগের মতো কৃষি কাজ, স্থাপনা নির্মাণ বা অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। 

বাংলাদেশের মতো উচ্চ জনঘনত্বের কৃষিনির্ভর দেশে এ ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে শুধু ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করা যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। জমির দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীলতা, কৃষকের আয়, খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর প্রভাবও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

‘চিকেন নেক’ এড়াতেই বাংলাদেশের করিডর : 

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিলিগুড়ি করিডর দিয়ে, যা কৌশলগতভাবে ‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত। সংকীর্ণ এ ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে ইতোমধ্যে সড়ক, রেল, গ্যাস পাইপলাইনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে।

প্রস্তাবিত ৭৬৫ কেভি সঞ্চালন লাইনের মতো উচ্চ ক্ষমতার বিদ্যুৎ অবকাঠামোর জন্য বড় আকারের নিরাপত্তা ও রাইট অব ওয়ে প্রয়োজন হয়। এ ধরনের সঞ্চালন লাইনের জন্য প্রায় ৬৪ থেকে ৮৫ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত করিডর প্রয়োজন হতে পারে। সেখানে স্থাপনা নির্মাণ, ভূমির ব্যবহার এবং বড় গাছপালা লাগানোর ওপরও বিধিনিষেধ থাকে। 

এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে সঞ্চালন লাইন নেওয়া হলে ভারতের জন্য রুটের দৈর্ঘ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। ফলে ভারত একদিকে যেমন সংক্ষিপ্ত রুট পাবে, অন্যদিকে দীর্ঘ ও জটিল শিলিগুড়ি করিডর এড়িয়ে যেতে পারবে।

বিদ্যুৎ করিডর ও ব্রহ্মপুত্রের পানি : 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতের অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং, দিবাং ও সুবানসিরিসহ বিভিন্ন নদীতে বড় আকারের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নদীর পানি শেষ পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশে প্রবেশের পর ব্রহ্মপুত্র যমুনা নামে প্রবাহিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে প্রভাবিত করে।

ফলে উজানে বড় বাঁধ, জলাধার ও পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মিত হলে ভাটির দিকে পানির প্রবাহের মৌসুমি চরিত্র বদলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রবাহ কমে গেলে কৃষি, নৌপথ, মৎস্যসম্পদ, নদীর জীববৈচিত্র্য এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এখানেই বিদ্যুৎ সঞ্চালন করিডর নিয়ে বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের জায়গাটি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালনের অবকাঠামোকে আরও কার্যকর করে দেয়, তাহলে সেই বিদ্যুতের একটি বড় অংশ যদি উজানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে আসে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তার বিষয়টি হুমকিতে পড়বে। 

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভারতের বিদ্যুৎ   করিডর   বাংলাদেশ   মরণফাঁদ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close