মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব টিটনের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে ‘সুজন বাহিনীর’ বিরুদ্ধে। বর্তমানে আহত নেতা মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে জামসা-গায়ানবাড়ি ব্রীজ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তার বাম হাত ও বাম পা ভেঙে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী টিটনের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে তার এক কর্মীকে মারধর করে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। ‘সুজন বাহিনীর’ প্রধান সুজন মৃধা ও তার সহযোগী জাকির, শাহীন ও জনিসহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জন পিস্তল, ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তার বাম হাত ও বাম পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে নীলাফুলা জখম হয় বলে জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী জামসা এলাকার কালাম জানান, আমি ও শিমুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক টিটন মানিকগঞ্জে যাচ্ছিলাম। জামসা গায়ানবাড়ি ব্রীজে আসলে সুজনসহ তার সহযোগী পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। আহ্বায়ককে হাতুরি দিয়ে বেধড়ক মারপিঠ করছে। পরে ডেগার (ছুরি) বের করলে আমি প্রাণের ভয়ে আমি দৌড়ে পালিয়ে যাই।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুজন মৃধা কয়েকজন যুবককে নিয়ে এলাকায় একটি প্রভাবশালী দল গড়ে তুলেছেন। বিভিন্ন সময় তারা এলাকায় মারামারি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকান্ড করছেন। তার ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
টিটনের দাবি, সুজন মৃধার বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তার সাজাও হয়েছে।
গাজী আহসান হাবীব টিটন বলেন, ‘তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে তিনি একাধিক হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। এখনো তাকে হামলার শিকার হতে হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।’
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির বলেন, ‘মারধরের সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। উল্টো আমার বাড়িতে হামলা করায় হরিরামপুর থানায় টিটন বাহিনীর নামে অভিযোগ করেছি।
হামলায় অভিযুক্ত অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
এ বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এআই