নীলফামারী শহরের নন্দলাল লেন ও হাজী মহসিন সড়কসংলগ্ন সরকারি জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমি দখলের চেষ্টা, মারধর ও নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী। একই ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে জানান, নন্দলাল লেনের ৮০৪ নম্বর খতিয়ান এবং ২৫৩৯ ও ২৫৪০ নম্বর দাগের সরকারি জমিটি দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি আতাউর রহমানের ছেলে মারুফ হোসেন হৃদয়সহ একটি প্রভাবশালী চক্র ওই জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছে। এতে স্থানীয় নারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্তদের নামে সরকারি ওই জমির কোনো লিজ বা বরাদ্দের আদেশ থাকলে তা দ্রুত বাতিল করতে হবে। বিতর্কিত জমি কোনো দখলদারকে না দিয়ে প্রকৃত ভূমিহীন ও দরিদ্রদের নামে বরাদ্দ দেওয়ারও দাবি জানান তারা। পাশাপাশি এলাকাটি পরিদর্শন করে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে জমি দখলের চেষ্টা, মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ছামিদুল ইসলাম। অভিযোগে মো. আতাউর রহমানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ১৪ এপ্রিল বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে আসামিরা কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বিবাদমান জমির তালা ভেঙে দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালান। এ সময় বাধা দিলে বাদী ছামিদুল ইসলামকে কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ছামিদুলকে রক্ষায় তার স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর এবং কাপড় টেনে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আতাউর রহমান (মাস্টার) বলেন, ‘আমরা সরকারি নিয়ম মেনে ডিসিআরের মাধ্যমে টাকা দিয়ে জমির লিজ গ্রহণ করি।’
নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে ঘটনাস্থলে ১৪৪ ধারা জারির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর যে অভিযোগটি দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেকে/ এমএস