রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় সহকারী শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর বিভিন্ন জেলা থেকে চার শিক্ষককে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়নের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। ২৫ আগস্টের অফিস আদেশে তাদের পদায়ন করা হলেও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, আদেশের কপি তারা পেয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর। এ অবস্থায় পদায়ন বাতিল, নথিপত্র যাচাই ও পুরো প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিরা।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, শূন্য পদে নিজ বেতন ও বেতন স্কেলে চার সহকারী শিক্ষককে গঙ্গাচড়ার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। তারা হলেন—পঞ্চগড়ের বোদার মেছবাহাতুল জান্নাত, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর মোছা. শাহিনা পারভীন, দিনাজপুরের বিরলের আবিদা আফছারী সূচী এবং নীলফামারীর জলঢাকার মোছা. জাকিয়া জাহান। তাদের যথাক্রমে মৌভাষা, বেতগাড়ী, দীঘলটারী ও খানাটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, ২৫ আগস্ট আদেশ জারি হলে সেটির কপি উপজেলা শিক্ষা অফিসে ১০ সেপ্টেম্বর কেন পৌঁছাল। বিভাগীয় কার্যালয় থেকে আদেশটি কবে পাঠানো হয়েছে এবং উপজেলা অফিস কবে তা গ্রহণ করেছে, নথিপত্রের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের আরও প্রশ্ন, ৬ সেপ্টেম্বর থেকে সহকারী শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও ২৫ আগস্টের আদেশের ভিত্তিতে চার শিক্ষক কীভাবে বিভিন্ন জেলা থেকে গঙ্গাচড়ায় পদায়িত হলেন। কয়েকটি পদায়নে ‘প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে’ শর্ত থাকায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে প্রতিস্থাপন হয়েছে কি না এবং পদায়নের সময় শূন্যপদগুলো বাস্তবে ছিল কি না, সেটিও যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের দাবি, পদায়নের জারি, প্রেরণ, গ্রহণ ও যোগদানের পুরো সময়রেখা যাচাই করে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে আদেশ বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষক ও আবেদনকারীদের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, তিনি ১০ সেপ্টেম্বর বদলি আদেশের কপি পেয়েছেন।
রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘এটা বদলি বন্ধ হওয়ার আগের আদেশ।’
তবে ২৫ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আদেশ জারি, প্রেরণ ও গ্রহণের সুনির্দিষ্ট সময়রেখা এখনও স্পষ্ট হয়নি। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে বিষয়টি নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিরা।
কেকে/সাশ