রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় প্রায় ১০ মাস ধরে উপজেলা শিক্ষা কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রতি মাসে সভা করার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় সভা না হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন সমস্যা, বিদ্যালয়ের অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. জেসমিন আক্তার ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর গঙ্গাচড়ায় যোগ দেন। এর আগে ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধার দায়িত্বকালীন সময়ে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর আর কোনো সভা হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ।
ইউএনও মোছা. জেসমিন আক্তারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। তার সঙ্গে কথা বলেন।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, ‘প্রতি মাসে সভা করার কথা থাকলেও আমরা শুধু কোনো বরাদ্দ অথবা সমস্যা তৈরি হলে সভা করি। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার বরাবরই সভা ডাকতে বলেন।’
নীতিমালা অনুযায়ী, উপজেলা শিক্ষা কমিটি প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রমের সমন্বয়, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত সভায় শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, ঝরে পড়া, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও শিক্ষা উপকরণসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি গঙ্গাচড়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, শিক্ষক বদলি-পদায়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযোগ ও জটিলতা সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন শিক্ষা কমিটির সভা না হওয়ায় এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও সমন্বয় কতটা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত সভার মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর মাঠপর্যায়ের সমস্যা প্রশাসনের নজরে আনা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। তাই নিয়মিত সভা আয়োজনের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যা ও শিক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কেকে/ এমএস