কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার নদী, খাল ও জলাশয়ে চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের ব্যবহার বেড়েছে। এসব জালে মাছের পাশাপাশি মাছের পোনা ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পড়ছে। এতে দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দাউদকান্দির পাঁচগাছিয়া দক্ষিণ ইউনিয়নের বাজারখোলা খালের পাশে বড় আকারের চায়না দুয়ারি জাল শুকাতে দেখা যায়। সেখানকার আবদুল লতিফ জানান, এই জাল দিয়ে মাছ ধরা নিষেধ—এমনটি তার জানা নেই। তিনি ও তার ভাতিজা কাদের এসব জাল দিয়ে মাছ ধরেন। তাদের কাছে কয়েকটি কারেন্ট জালও রয়েছে।
চায়না দুয়ারি জালে মাছের পাশাপাশি পোনা, সাপ, ব্যাঙ, কুঁচো ও কাঁকড়াসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পড়ছে। দাউদকান্দির চরচরমহমুদ্দী, দৈয়াপাড়া, সুন্দলপুর, কাউয়াদী ও জিংলাতলী এলাকায় এসব জালের ব্যবহার দেখা গেছে।
দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারে চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল প্রকাশ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
দাউদকান্দি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোসা. সাবিনা ইয়াছমিন চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর এসব বিষয়ে অভিযান চালানো হয়। এ বছর এখনো অভিযান করা সম্ভব হয়নি। ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত অভিযান চালানো হবে। তার দপ্তরে তিনি ছাড়া আর কোনো জনবল নেই।
পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত (এআইপি) বলেন, এসব জালে মাছের পোনা ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী নির্বিচারে ধরা পড়ছে। এতে দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জালের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে মৎস্য দপ্তরে পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কেকে/ এমএস