চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় এক রাতে পাশাপাশি থাকা পাঁচ ভাইয়ের পাঁচটি বসতঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশ পরা ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি ও মারধর করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও ছয়টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রোসাইঙ্গা ঘোনা হাকিমিয়া পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ডাকাতিতে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন—মো. ইলিয়াসের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৪১) এবং তার চার ভাই মহিউদ্দিন (৩৯), জসিম উদ্দিন মোমেন (৩৩), জমির উদ্দিন (২৮) ও কায়সার উদ্দিন (২৬)। তারা পাশাপাশি বসতঘরে বসবাস করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত রোববার তারা একটি এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে একজন ৭০ হাজার টাকা এবং তার এক ভাই ১ লাখ টাকা ঋণ নেন। ঘটনার রাতে ডাকাত দল বাড়িতে প্রবেশ করেই অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে এবং মারধর শুরু করে। পরে একে একে পাঁচটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীরা জানান, ডাকাত দলের দুজনের হাতে দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যদের হাতে চাপাতি ও রামদা ছিল। তারা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল। পরিবারের সদস্যদের রশি দিয়ে বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রায় ৪০-৫০ মিনিট ধরে ঘরগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয়দের জানান।
পরিবারগুলোর দাবি, ডাকাতির ঘটনায় প্রায় এক ভরি দুই আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল, আংটি ও গলার চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, নগদ ২ লাখ ১৩ হাজার ৪০০ টাকা এবং ছয়টি মোবাইল ফোন লুট হয়েছে।
ঘটনার পর চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তিনি বলেন, ‘চুনতি এলাকায় পাঁচটি বাড়িতে ডাকাতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।’
অতীতেও এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
কেকে/এআই