সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নীলফামারী কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদে বাদ আছর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংলগ্ন কেন্দ্রীয় কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হয়।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ২ কন্যাসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মোসলেম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং শেষ বয়সে তাঁর ফুসফুস অকার্যকর হয়ে পড়ে। আর্থিক অনটনের কারণে নীলফামারী সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
উল্লেখ্য, নীলফামারী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শাহীপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিন শহরের শিল্পকলা একাডেমির সামনে বাঁশের ঝুড়িতে সাধারণ ফল বিক্রি করতেন। সামান্য এই আয়ে সংসার চললেও সততা, নম্র ব্যবহার এবং বিনয়ী আচরণের জন্য তিনি শহরের সর্বস্তরের মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। স্থানীয়রা তাঁকে ভালোবেসে ‘বৈজ্ঞানিক’ নামে ডাকতেন।
স্থানীয়দের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল ও ধর্মপ্রাণ একজন মানুষ। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে আদায় করতেন। শাহী পাড়া মোড়ে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিভিন্ন দেশি ফল নিয়ে বসে ব্যবসা করতেন তিনি।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে নীলসাগর গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আহসান হাবীব লেলিন বলেন, ‘মাত্র কয়েকশ টাকার ফল নিয়ে বসেও তার মধ্যে কোনো অভিযোগ দেখিনি। আল্লাহর ওপর তার ছিল গভীর আস্থা। এমন শোকরগুজার মানুষ খুব কমই দেখা যায়।’
তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন ও মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
কেকে/ এমএস