মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: চাপে সাধারণ মানুষ, নিরুপায় সরকার      নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান      একে একে গ্রেপ্তার ইমরান খানের তিন বোন      বাসভাড়া কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়াতে চান পরিবহন মালিকরা      ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৬৫৫      ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান      হামের উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩০৫      
দেশজুড়ে
খুঁটি বসানো নিয়ে বিরোধ, বাঁশের বেড়ায় বন্ধ ৪ পরিবারের চলাচল
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৩ এএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বাকসাডাঙ্গী গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি (পোল) বসানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এ বিরোধের জেরে এক পক্ষ বাঁশের বেড়া দিয়ে চার পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি একাধিক মামলা করার অভিযোগও রয়েছে।

চলাচলের একমাত্র পথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় এক বছর ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন ওই এলাকার তমছেল মন্ডল, টগর শেখ, সাগর শেখ ও হাসিনা বেগমের পরিবারের নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন সদস্য। বিকল্প পথ হিসেবে বাধ্য হয়ে মাঠের হাঁটুপানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নারুয়া ইউনিয়নের বাকসাডাঙ্গী গ্রামের তমছেল মন্ডলের বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন ও খুঁটি বসানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আবুল কালাম আজাদ, রেজাউল, শামীম, সোহেল, রফিক, রহমান, আক্তার, ইস্রাফিল ও ইমরানের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধের জেরে প্রায় এক বছর আগে তমছেল মন্ডলদের চলাচলের একমাত্র পথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এতে বাধ্য হয়ে তারা মাঠের হাঁটুপানি দিয়ে চলাচল করছেন।

এদিকে ঘটনাস্থলে সংবাদকর্মীরা গেলে আক্তার হোসাইন ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় আক্তার হোসাইন বলেন, ‘আপনারা কার অনুমতি নিয়ে এসেছেন? এখান থেকে চলে যান। প্রশাসনসহ কতজন এসেছে, আপনারা তো থার্ড পার্টি।’

ভুক্তভোগী সুজন মন্ডল বলেন, ‘বিদ্যুতের তার তারা আমার বাড়ির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক টাঙিয়েছে। বাধা দিলে আবুল কালাম আজাদ, আবু হান্নান লাবু ও মুক্তি বাড়িতে এসে আমার মাকে মারধর করেছে। পরে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করি। এরপর তারা একের পর এক মিথ্যা মামলা করে এবং জমি দাবি করে বাঁশের বেড়া দিয়ে আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই বেড়া সম্পূর্ণ আমাদের জমির ওপর দেওয়া হয়েছে। জমি বুঝিয়ে দিতে বললে তারা জোরজবরদস্তি করে নিজেদের মতো মাপজোক করে চলে যায়। এসব করছেন আবুল কালাম আজাদ। তাঁদের মূল জমি ১৯ শতাংশ হলেও খাস জমিসহ ২১ শতাংশ দখল করে রেখেছেন। প্রায় এক বছর ধরে বেড়া দিয়ে আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এখন পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।’

সুজন মন্ডলের অভিযোগ, তার ভাইকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে চার লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেড়া অপসারণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও তা অপসারণ করা হয়নি। তিনি ন্যায়বিচার ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে মুক্তি দাবি করেন।

আরেক ভুক্তভোগী সাগর শেখ বলেন, ‘আমি ভ্যান চালিয়ে ও বড় বড় গাছ পরিষ্কার করে সংসার চালাই। পথ বন্ধ করে দেওয়ায় ভ্যান আনা-নেওয়া করতে পারছি না। উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিবেশী প্রতিপক্ষের আক্তার হোসাইন বলেন, ‘২০২৩ সালে বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর জন্য আবেদন করি। বিদ্যুৎ অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি চার্জ পরিশোধ করলে তারা লাইন সরিয়ে নেয়। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই। কিন্তু বিদ্যুতের তার তাঁদের বাড়ির ওপর দিয়ে কিছু অংশ যাওয়ায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রাম আদালতে মীমাংসার কথা বললেও তারা সেখানে যায়নি। পরে বিষয়টি ইউএনওকে জানালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাঁদের মুচলেকা নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। কিন্তু তারা সেটি মানেনি। এখন পর্যন্ত তিনটি মিথ্যা মামলা করেছে। যারা বাড়িতে থাকেন না, তাঁদের নামেও এসব মামলা দেওয়া হয়েছে।’

বাঁশের বেড়া দেওয়ার বিষয়ে আক্তার হোসাইন বলেন, ‘সম্পূর্ণ আমাদের জমির ওপর বেড়া দিয়েছি। তাঁদের চলাচলের জন্য একটি পথও রাখা হয়েছে। কিন্তু তারা একাধিক প্রবেশপথ দাবি করছে। তারা রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এসব করছে। আমরাও সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’ সংবাদকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের জন্য তিনি ক্ষমা চান।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি, বিষয়টি জানি না। তবে মুচলেকা দেওয়ার পরও বেড়া অপসারণ না করা আইনের অবমাননা। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  বিরোধ   চলাচল বন্ধ   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close