বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। তবে র্যালিতে লোকসমাগম বাড়াতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তীব্র গরমের মধ্যে সড়কে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাধারণ পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের হোটেল-মোটেল জোন থেকে র্যালিটি শুরু হয়। এতে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন হোটেল কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই শহরের কক্সবাজার পৌর প্রিপারেটরি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশু শিক্ষার্থীদের র্যালিতে সারিবদ্ধভাবে নিয়ে আসা হয়।
তীব্র রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় অবস্থান করায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, চড়া রোদ ও অতিরিক্ত গরমে তাদের বেশ কষ্ট হচ্ছে এবং হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হয়েছে।
পর্যটন দিবসের অনুষ্ঠান দেখতে এসে শিক্ষার্থীদের এভাবে তীব্র গরমের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখার দৃশ্য দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অনেক দর্শনার্থী ও পর্যটক।
ঢাকা থেকে আসা মারুফ নামের এক পর্যটক বলেন, “বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপনের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে এমন তীব্র গরমের মধ্যে ছোট ছোট স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে এসে এভাবে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা একেবারেই শোভনীয় নয়। এই অতিরিক্ত গরমে কোমলমতি শিশুরা যেকোনো সময় অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।”
শিক্ষার্থীদের র্যালিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান সিয়াম বলেন, “জেলা শিক্ষা অফিসারের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এই র্যালিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।”
কক্সবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গুলশান আরা জানান, জেলা প্রশাসনের মিটিংয়ে কিছু ছাত্রছাত্রীকে র্যালিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই গরমে কোমলমতি শিশুদের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আসলে আপনার সঙ্গে আমি একমত। এই গরমে তাদের ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে পর্যটন সম্পর্কে একটি ধারণা তারা পাবে—এটা মনে করে বিভিন্ন স্কুল থেকে তাদের পাঠানো হয়েছে।”
তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সচেতন মহল মনে করছে, উৎসব-অনুষ্ঠানে লোকসমাগম বাড়াতে কোমলমতি শিশুদের ব্যবহার করা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ানো কোনোভাবেই কাম্য নয়।
কেকে/ এমএস