সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব      ● প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’র পলায়ন, বরখাস্ত ৫ পুলিশ সদস্য      ● ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে তথ্য যাচাইয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা      ● মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথিরের স্ত্রী সিতি হাসমাহ আর নেই      ● হামলার পর মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকে ফিরল নিজস্ব সাইনবোর্ড      ● স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম      ● ছাত্র আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ      
দেশজুড়ে
কুষ্টিয়ার হাসপাতালে রোগীর প্রেসক্রিপশন নিয়ে ‘দৌরাত্ম্য’
সৌরভ হোসেন, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৬ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ ও মোবাইলে ছবি তোলার অভিযোগ উঠেছে ওষুধ কোম্পানির কিছু প্রতিনিধির বিরুদ্ধে। রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হওয়ার পরই তাদের অনুসরণ করে প্রেসক্রিপশন দেখতে চাওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়াই প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে ছবি তোলা হচ্ছে। এতে রোগীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সরেজমিনে কথা বলে জানা গেছে, বহির্বিভাগে রোগীর চাপের সুযোগ নিয়ে কয়েকজন তথাকথিত মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) রোগীদের পিছু নেন। কেউ কেউ প্রেসক্রিপশন দেখতে চান, আবার অভিযোগ রয়েছে—কখনো রোগীর হাত থেকে কাগজ নিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে ফেরত দেওয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীর অজান্তেও ছবি তোলার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির ১০ মে ২০২৫ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোগীর প্রেসক্রিপশন বা চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো নথির ছবি তোলা নিষিদ্ধ। একই সিদ্ধান্তে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সপ্তাহে দুই দিন—সোমবার ও বৃহস্পতিবার—চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে হাসপাতালগুলোতে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রোগীদের।

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসককে দেখিয়ে বের হওয়ার পর একজন তার প্রেসক্রিপশন দেখতে চান। দিতে রাজি না হলেও জোর করে কাগজটি নিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে ফেরত দেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন।

এক নারী রোগী বলেন, প্রেসক্রিপশনে তার রোগসংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য থাকে। কোনো অনুমতি বা কিছু না জানিয়েই সেটির ছবি তুলে নেওয়ায় তিনি অস্বস্তিতে পড়েন। তার প্রশ্ন, ব্যক্তিগত তথ্য কোথায় যাচ্ছে বা কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তা রোগীরা জানেন না।

এক বয়স্ক রোগী বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, হাসপাতালের পরিবেশে কিছু বলতেও ভয় পাই। ডাক্তার দেখিয়ে বের হওয়ার পর হঠাৎ কেউ এসে প্রেসক্রিপশন নিয়ে নেয়। প্রতিবাদ করার সাহস থাকে না। এভাবে হাত থেকে কাগজ নিয়ে ছবি তোলা ঠিক নয়।’

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “প্রেসক্রিপশন একজন রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য। এটি কারও সঙ্গে শেয়ার করার সুযোগ নেই। প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলা, সংরক্ষণ করা বা অন্যের সঙ্গে শেয়ার করাও অপরাধ। এটি মূলত রোগীর ওষুধ কেনার প্রয়োজনেই ব্যবহারের জন্য।”

তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  রোগীর প্রেসক্রিপশন   কুষ্টিয়ার হাসপাতাল  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close