কুমিল্লার চান্দিনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতঘর পুড়ে গেছে। এতে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, আসবাবপত্র, আইএলটিএসের সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়নের কুদুটি বড়বাড়ি এলাকায় গাজী মেরাজ হাসান সিয়ামের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বৈদ্যুতিক চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এর আগেই সিয়ামের দুটি বসতঘর পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুনে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, আসবাবপত্র, আইএলটিএসের সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা।
গাজী মেরাজ হাসান সিয়াম বলেন, “আমি তখন বাড়ির বাইরে ছিলাম। পরে আমার বোন ফোন করে বাড়িতে আগুন লাগার কথা জানায়। দ্রুত বাড়িতে এসে স্থানীয়দের সঙ্গে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, জরুরি কাগজপত্র ও আসবাবপত্র কিছুই বের করতে পারিনি। বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আমি আইএলটিএস সম্পন্ন করেছি। সেই সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব কাগজপত্র পুড়ে গেছে।”
প্রত্যক্ষদর্শী গিয়াস উদ্দিন কানন বলেন, “হঠাৎ আমরা আগুন দেখতে পাই। চিৎকার ও শোরগোল শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় চেষ্টা করার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর মধ্যেই সিয়ামের দুটি বসতঘর পুড়ে যায়।”
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইমাম হোসেন পাটোয়ারী বলেন, “ফোনে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হই। মাঝপথে যাওয়ার পর আবার ফোনে জানতে পারি, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আমাদের যাওয়ার প্রয়োজন নেই। পরে আমরা আর ঘটনাস্থলে যাইনি। তবে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
কেকে/সাশ