আবাসিক এলাকায় মদের বার ঘিরে দিনদিন বিশৃঙ্খলা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাত হলেই বারের আশপাশে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। প্রকাশ্যে মাতলামি, উচ্চস্বরে গালাগালি ও বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এমন বার পরিচালিত হওয়ায় সন্ধ্যার পর পরিবেশ আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। বারের পাশে রয়েছে অক্সফোর্ড স্কুল, বেঙ্গল গ্যালারি ও মিনা বাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে লালমাটিয়া এলাকায় প্রশাসনের অভিযান হবে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বার থেকে নারী-পুরুষদের দ্রুত বের হয়ে দৌড়ে পালানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। মোহাম্মদপুর লালমাটিয়া ২৭ নম্বর মেইন রডো ঢাকা ব্যাংকের উপরে অবস্থান এ বারটি।
লালমাটিয়া এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক জানিয়েছেন, স্কুল ছুটির পর অনেক সময় এ রাস্তা দিয়ে হেঁটে বাসায় ফিরতে হয়। কিন্তু বারে মদ সেবনের পর অনেককে প্রকাশ্যে অশালীন আচরণ ও কথাবার্তা বলতে দেখা যায়। নারী মাদকসেবীরাও রাস্তায় দাঁড়িয়ে ধূমপান করেন। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। আবাসিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকা থেকে বারটি বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।
একই এলাকার বাসিন্দা নূর জাহান বেগম বলেন, ‘সন্ধ্যার পর শিশুদের নিয়ে এ পথ দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। নারী-পুরুষ মাদকসেবীদের মাতলামি, ধূমপান ও অশালীন ভাষায় গালাগালির কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।’
লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটির সভাপতি বেলাল আহমেদ জানান, বার বন্ধের বিষয়ে কয়েক দফায় বারটির মালিক ও ভবন মালিককে লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও বাসিন্দারাও বিষয়টি নিয়ে তার কাছে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু নোটিশ দেওয়ার পরও বারটি বন্ধ হয়নি, বরং কার্যক্রম আরও বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘বারের পাশেই অক্সফোর্ড স্কুল, বেঙ্গল গ্যালারি ও মিনা বাজার রয়েছে। এ ছাড়া আশপাশে আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বারটির কারণে শিক্ষার্থী ও বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’
বারের মালিক কাজী মিনহাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
বারটির দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার সুমন বলেন, ‘গতকাল রাতে গুলশান এলাকায় কয়েকটি বারে প্রশাসনের অভিযান হয়েছে এমন খবর লালমাটিয়ায় পৌঁছালে বারের কাস্টমাররা দ্রুত বের হয়ে যান।’
তিনি দাবি করেন, আদালতের অনুমতি নিয়ে বারটি পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এ এলাকার ঠিকানায় লাইসেন্স না থাকলেও অন্য একটি এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে লাইসেন্স রয়েছে বলে জানান তিনি। মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাঝেমধ্যে এসে পরিদর্শন করেন।
কয়লা রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারের সিইও শামীম চৌধুরী জানান, লালমাটিয়ার বারটির সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বারটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে বা তাদের কোনো অনুমোদন আছে কি না, সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, ‘লালমাটিয়ার ওই বার সম্পর্কে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি মূলত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেখবে। তারা পুলিশকে জানালে অভিযানে সহযোগিতা করা হবে।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের উপ-পরিচালক (অপারেশন) মো. রাজিউর রহমান বলেন, ‘ওই বার তাদের কাছ থেকে কোনো লাইসেন্স নেয়নি। আদালত থেকে অনুমোদন নিয়ে বারটি পরিচালনা করা হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছে। তবে লালমাটিয়া এলাকায় তাদের কোনো অনুমোদন নেই। তেজগাঁও এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে এখানে বার পরিচালনা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের বার পরিচালনার বিষয়টি জানিয়ে আদালতকে চিঠি দেওয়া হবে।’
প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান আসার খবর আগে থেকেই বারে পৌঁছে যায়। এরপর বার কর্তৃপক্ষ দ্রুত সবাইকে বের হয়ে যেতে বলে। ভিডিওতে নারী-পুরুষদের দ্রুত বের হয়ে যেতে দেখা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কেকে/এআই