দুর্গাপূজা মানেই শুধু প্রতিমা দর্শন, সাজগোজ আর রঙের বাহার নয়; বাঙালির এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা পদের খাবারদাবারও। আর পুজোর ভোজে নাড়ু থাকবে না, তা কি হয়! মণ্ডপে ঘোরা কিংবা নতুন পোশাকে সাজগোজ—সবকিছুর মাঝেই মিষ্টিমুখের জন্য সবার আগে হাত বাড়ে নাড়ুর দিকে।
নারকেল, তিল, মুড়ি কিংবা মোয়া—উপকরণভেদে নাড়ুর স্বাদ ও ধরনও হয় ভিন্ন। ঘরোয়া এই মিষ্টি যেমন সহজে তৈরি করা যায়, তেমনি উৎসবের আনন্দও বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ।
দুর্গাপূজা যখন প্রায় দোরগোড়ায়, তখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা এড়াতে আগে থেকেই সেরে রাখা যায় প্রস্তুতি। প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড় করে শিখে নিতে পারেন নানা স্বাদের নাড়ু তৈরির রেসিপি। পূজার আয়োজনের তালিকায় তাই সাজগোজ আর ভোগের পাশাপাশি থাকুক ঘরে তৈরি মজাদার নাড়ুও।
১. ঐতিহ্যে ঘেরা নারকেলের নাড়ু
নারকেলের নাড়ু দুর্গাপূজার চিরচেনা মিষ্টি। অল্প কয়েকটি উপকরণেই তৈরি করা যায় এই জনপ্রিয় পদ।
উপকরণ: কোরানো নারকেল ২ কাপ, চিনি বা গুড় ১ কাপ (স্বাদমতো), এলাচগুঁড়া সামান্য, দুধ ২–৩ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)
প্রস্তুত প্রণালি: কড়াইয়ে কোরানো নারকেল ও চিনি বা গুড় মিশিয়ে নিন। কম আঁচে নাড়তে থাকুন, যতক্ষণ না মিশ্রণটি আঠালো হয়ে আসে। এলাচগুঁড়া দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে চুলা বন্ধ করুন। মিশ্রণটি কিছুটা ঠান্ডা হলে হাতে গোল করে নাড়ু বানিয়ে নিন।
২. তিলের নাড়ু
তিলের সুগন্ধ আর গুড়ের মিষ্টি স্বাদে এই নাড়ু উৎসবের খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন।
উপকরণ: সাদা বা কালো তিল ১ কাপ, গুড় আধা কাপ, পানি ১–২ টেবিল চামচ
প্রস্তুত প্রণালি: তিল পরিষ্কার করে শুকনো কড়াইয়ে হালকা ভেজে নিন। অন্য পাত্রে গুড় ও পানি গরম করে ঘন সিরা তৈরি করুন। সিরার মধ্যে ভাজা তিল দিয়ে দ্রুত মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি সহনীয় গরম থাকতেই হাতে সামান্য পানি মেখে গোল নাড়ু তৈরি করুন।
৩. মুড়ির নাড়ু/মোয়া
মুচমুচে মুড়ি আর গুড়ের মিশেলে তৈরি এই নাড়ু সহজ, সুস্বাদু এবং অতিথি আপ্যায়নের জন্য বেশ উপযোগী।
উপকরণ: মুড়ি ৩ কাপ, গুড় ১ কাপ, পানি ২ টেবিল চামচ, ঘি ১ চা-চামচ (ঐচ্ছিক)
প্রস্তুত প্রণালি: মুড়ি শুকনো কড়াইয়ে হালকা গরম করে মুচমুচে করে নিন। গুড় ও পানি জ্বাল দিয়ে ঘন সিরা তৈরি করুন।সিরায় মুড়ি দিয়ে দ্রুত ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। হাতে সামান্য ঘি মেখে মিশ্রণটি গরম থাকতেই গোল নাড়ু তৈরি করুন।
৪. চিনাবাদামের নাড়ু
বাদামের ঘ্রাণ আর গুড়ের মিষ্টি স্বাদে তৈরি এই নাড়ু স্বাদে যেমন ভালো, তেমনি তৈরি করাও সহজ।
উপকরণ: চিনাবাদাম ২ কাপ, গুড় ৩/৪ কাপ, এলাচগুঁড়া সামান্য, ঘি ১ চা-চামচ (ঐচ্ছিক)
প্রস্তুত প্রণালি: চিনাবাদাম শুকনো কড়াইয়ে ভেজে খোসা ছাড়িয়ে নিন। বাদামগুলো হালকা ভেঙে নিন, তবে একেবারে গুঁড়া করবেন না। গুড় গরম করে ঘন সিরা তৈরি করে তাতে বাদাম ও এলাচগুঁড়া মেশান। মিশ্রণটি সামান্য ঠান্ডা হলে হাতে গোল করে নাড়ু তৈরি করুন।
৫. বেসনের নাড়ু
একটু ভিন্ন স্বাদের মিষ্টি চাইলে বেছে নিতে পারেন বেসনের নাড়ু। ঘি ও এলাচের সুবাস এই মিষ্টির স্বাদ বাড়িয়ে দেয়।
উপকরণ: বেসন ১ কপ, ঘি ১/৩ কাপ, গুঁড়া চিনি আধা কাপ, এলাচগুঁড়া সামান্য, কুচানো বাদাম ২ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)
প্রস্তুত প্রণালি: কড়াইয়ে ঘি গরম করে বেসন কম আঁচে ধীরে ধীরে ভাজুন। বেসন থেকে সুন্দর সুবাস বের হলে চুলা বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন। মিশ্রণটি হালকা গরম থাকতে গুঁড়া চিনি, এলাচগুঁড়া ও বাদাম মেশান। মিশ্রণটি হাতে নেওয়ার মতো ঠান্ডা হলে গোল করে নাড়ু বানিয়ে নিন।
নাড়ু ভালো রাখার কয়েকটি টিপস
নাড়ু তৈরির আগে নারকেল, তিল বা মুড়িতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা আছে কি না দেখে নিন। নাড়ু পুরোপুরি ঠান্ডা হলে পরিষ্কার, শুকনো ও বায়ুরোধী পাত্রে রাখুন। দুধ বা তাজা নারকেল দিয়ে তৈরি নাড়ু বেশিদিন বাইরে না রেখে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। গুড়ের সিরা বেশি পাতলা হলে নাড়ু ঠিকমতো বাঁধবে না; আবার বেশি শক্ত হয়ে গেলে গোল করা কঠিন হবে।
পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে ঘরে তৈরি এই পাঁচ ধরনের নাড়ু হতে পারে দারুণ আয়োজন। পছন্দের স্বাদ বেছে নিয়ে আগেভাগেই তৈরি করে রাখুন, আর উৎসবের দিন প্রিয়জনদের সঙ্গে জমিয়ে উপভোগ করুন মিষ্টিমুখের মুহূর্ত।
কেকে/সাশ