তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করা, দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলা এবং মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
রোববার (১১ই অক্টোবর) বিকেলে লালমনিরহাট জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক আলোকিত কিশোর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, ‘একসময় লালমনিরহাটে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে জমজমাটভাবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন সেই ধারাবাহিকতা বন্ধ ছিল। স্টেডিয়ামটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় মাঠ ঘাস ও আগাছায় ভরে গিয়েছিল। পরে মাঠটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।’
‘খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে সক্রিয় করা গেলে মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়া তরুণ ও যুবসমাজের একটি অংশকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে এই জেলার তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি নতুন করে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তারা আবার খেলার মাঠে ফিরছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে খেলা-ধুলার ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।’
টুর্নামেন্টের সভাপতি ও লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী হবে এবং তাদের মাঠমুখী করার উদ্যোগ সফল হবে।
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সন্তানদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে হবে এবং নিয়মিত খেলার মাঠে আসার সুযোগ করে দিতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় সম্পৃক্ত থাকলে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব আব্দুল হাকিম, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় মর্নিং স্টার ফুটবল একাডেমি ও বসুন্ধরা ক্রীড়া চক্র। প্রতিযোগিতায় ১৬টি দল অংশ নিচ্ছে।
কেকে/এমএ