অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ১৫৯ রানের বিশাল জুটিটাই বাংলাদেশকে আবুধাবি টেস্টে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। যদিও এই দুই ব্যাটার সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে আউট হয়ে গেছেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ৮২ এবং মুশফিকুর রহিম আউট হলেন ৮১ রানে।
রোববার (১১ অক্টোবর) তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের রান ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৩। বাংলাদেশের সর্বমোট লিড দাঁড়িয়েছে ৩২৯ রানের। ৫ রান নিয়ে লিটন দাস এবং কোনো রান না করে উইকেটে রয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে মুশফিক এবং শান্তর জুটিটা ভালোই টানছিলো বাংলাদেশকে। কিন্তু দলীয় ২১২ রানের মাথায় মুশফিক আউট হওয়ার পরই ধ্বস নামে। দ্রুত ৩ উইকেট পড়ে যায় বাংলাদেশের। ৩ উইকেটে ২১২ থেকে বাংলাদেশের রান হয়ে যায় ৬ উইকেটে ২২৩। ১১ রানের মধ্যে পড়ে ৩ উইকেট। হাসান মাহমুদকে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে মাঠে নামানো হয়েছিল; কিন্তু জিয়া-উর রেহমানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান তিনি।
আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে অলআউট করে দেওয়ার পর ১০০’রও বেশি লিড দাঁড়ায় বাংলাদেশের। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাটিং- সব মিলিয়ে আবুধাবি টেস্টের চালকের আসনে রয়েছে বাংলাদেশ। চা বিরতির আগেই ৭৩ বলে হাফ সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছান মুশফিক। ক্যারিয়ারে এটা তার ৩০তম হাফ সেঞ্চুরি। এরপর হাফ সেঞ্চুরি করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এটা তার ক্যারিয়ারে ৮ম হাফ সেঞ্চুরি। ১৩৫ বল খেলে ৫০ এর ঘরে পৌঁছান তিনি।
এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি সাদমান ইসলাম আর মুমিনুল হক। সাদমান ১৩ আর মুমিনুল ৭ রান করে সাজঘরে ফিরে গেছেন।
লাঞ্চের ঠিক আগের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন মুমিনুল। তার আগে বড় শট খেলতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন সাদমান। আর লাঞ্চের পর স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তানজিদ হাসান তামিম (৩১)।
এর আগে বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে ২৪০ রানে অলআউট হয়েছে আফগানিস্তান। ফলে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
আফগানিস্তানের ইনিংসে হ্যাটট্রিক করেছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন রহমত শাহ। ২১৬ বলে ১০ চার আর ২ ছক্কায় ১০৫ রানে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন তিনি।
তৃতীয় দিনের সকালেই আফগানদের কোণঠাসা করে দিয়েছে বাংলাদেশ। এবাদত হোসেন আর হাসান মাহমুদের তোপে ১ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়েছে আফগানরা। এর মধ্যে হাসান মাহমুদ করে বসেছেন হ্যাটট্রিক।
দিনের তৃতীয় ওভারে আঘাত হানেন এবাদত হোসেন। ইকরাম আলি খিলকে (৩২) পরিষ্কার বোল্ড করে দেন তিনি।
পরের ওভারে টানা দুই বলে দুই উইকেট হাসান মাহমুদের। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ইসমত আলমের (১) অফস্টাম্প উপড়ে দেন এই পেসার। পরের বলে সুইংয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচ কায়েস আহমেদ (০)।
হ্যাটট্রিক বলে হয় নাটক। আফগান ব্যাটার জিয়াউর রহমানের ব্যাটের পাশ দিয়ে বল জমা পড়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে। আবেদন করে বাংলাদেশ। কিন্তু আম্পায়ার সেটা নাকচ করে দেন।
রিভিউ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। রিভিউতে দেখা যায়, বল ব্যাটে না লাগলেও প্যাডে লেগেছে আর আঘাত হানতো অফস্টাম্পে। এলবিডব্লিউ জিয়াউর রহমান। হ্যাটট্রিকের আনন্দে মাতেন হাসান মাহমুদ।
এরপর ইয়ামিন আহমেদজাইকে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ বানিয়ে ফাইফারও পূর্ণ করেন হাসান। টেস্টে এটি তার চতুর্থ ফাইফার বা পাঁচ উইকেট শিকার।
হাসান মাহমুদ ৫৫ রানে নেন পাঁচটি উইকেট। আরেক পেসার এবাদত হোসেন ৫৬ রানে শিকার করেন চারটি। একটি উইকেট মেহেদী হাসান মিরাজের।
কেকে/এমএ