নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রথীন্দ্রনাথ মণ্ডলের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে নীলফামারী মেডিকেল কলেজ ও নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নীলফামারী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জিম্মা হোসেন। নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দেবব্রত হালদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল মতিন।
এ সময় বক্তব্য দেন নীলফামারী মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহরাব হোসেন, শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জেলা কমিটির আহ্বায়ক সোহেলুর রহমান সোহেল, ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. সজল কুমার ঘোষ এবং ছাত্র প্রতিনিধি নেওয়াজ মাহমুদ ইমন।
মানববন্ধনে জানানো হয়, রোববার দুপুরে হাসপাতালে দায়িত্বরত অবস্থায় আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট নেওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার হন ডা. রথীন্দ্রনাথ মণ্ডল। এ ঘটনায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক নাঈম ইসলামের বিরুদ্ধে ওই চিকিৎসককে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে। চিকিৎসকের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে এসে নাঈম ইসলামকে আটক করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
নীলফামারী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জিম্মা হোসেন বলেন, “ডা. রথীন্দ্রনাথ অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র মানুষ। হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে তার ওপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের কর্মস্থলেই যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে আমরা কীভাবে কাজ করব? মানুষের সেবার ব্রত নিয়ে আমরা কাজ করছি। হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল মতিন বলেন, “চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে, মানুষের সেবা করতে গিয়ে আমরা বারবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। চিকিৎসার সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আমাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করি।”
মানববন্ধন থেকে হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনবলসংকট দূর করা এবং দ্রুত চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
পরে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল্লাহ হেল মাফি বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নাঈম ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
কেকে/ এমএস