মাত্র ১ হাজার ২৬৩ টাকা পাওনা চাওয়ায় মৌলভীবাজারে দুরুদ মিয়া নামে এক চা বিক্রেতাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে প্রধান আসামি ছাদিক মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলার অপর সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম এ রায় দেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১২ জুন সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নারাইনপাশা এলাকায় চা বিক্রেতা দুরুদ মিয়া আসামি ছাদিক মিয়ার কাছে তাঁর বকেয়া ১ হাজার ২৬৩ টাকা দাবি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাদিক ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
কিছুক্ষণ পর সহযোগীদের নিয়ে ধারালো অস্ত্রসহ ফিরে এসে দুরুদ মিয়ার ওপর হামলা চালান তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় দুরুদ মিয়াকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার দিন রাতেই নিহতের ছেলে মকবুল মিয়া বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ১৬/১২-০৬-২০০৮ এবং জিআর নম্বর ১৪২/০৮।
দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত প্রধান আসামি ছাদিক মিয়াকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
অন্যদিকে, অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তছকির মিয়া, সিরাজ মিয়া, নুরুল ইসলাম, ছাইফুর রহমান, আতাউর রহমান, শফিক মিয়া ও আছাব মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, “এই দণ্ডের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো এবং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ল।”
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক বলেন, রায়ে তাঁরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার মাধ্যমে আদালতে মামলাজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হচ্ছে। দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ায় সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। ভবিষ্যতেও বিচার বিভাগের এ গতিশীলতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। অন্যদিকে, রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির স্বজনদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
কেকে/সাশ