বার্সেলোনার হয়ে বিদায়ী সংবর্ধনা নিতে দেরি করায় লিওনেল মেসির সমালোচনা করেছেন ক্লাবটির প্রাক্তন সভাপতি হুয়ান গাসপার্ট। মেসিকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ‘বার্সেলোনার চেয়ে বড় কেউ নন মেসি। ক্লাবের সমর্থকদের বিদায় জানাতে ন্যু ক্যাম্পে ফেরার ক্ষেত্রে কোনো শর্ত আরোপ করা উচিত নয় তার।’
হুয়ান গাসপার্ট মনে করেন, বর্তমান সভাপতি হুয়ান লাপোর্তার সাথে মেসির সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও সেটিকে বিদায়ী সংবর্ধনার পথে বাধা হতে দেওয়া উচিত নয়।
মেসি যদি লাপোর্তা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ক্যাম্প ন্যুতে ফিরতে না চান, তাহলে সেটি তার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানিয়েছেন গাসপার্ট।
বার্সেলোনার হয়ে ক্যারিয়ারের ২১টি বছর কাটিয়েছেন মেসি। ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের বিদায়ী সংবর্ধনা নিয়ে আলোচনা চললেও গাসপার্টের দাবি, মেসি বিষয়টি বিলম্বিত করছেন। যদিও মেসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্যের কথা জানা যায়নি।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেসিকে বার্সেলোনায় নিয়ে এসেছিলেন গাসপার্ট। তখন ক্লাবটির সভাপতি ছিলেন তিনি। সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে মেসির প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও বলেছেন সাবেক এই কর্মকর্তা। তবে একই সঙ্গে তার বক্তব্য, ব্যক্তির চেয়ে ক্লাবের মর্যাদা বড়।
গাসপার্ট বলেন, ‘লিও নিঃসন্দেহে একজন অসাধারণ ফুটবলার, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। তবে একটি বিষয় তার ভুলে যাওয়া উচিত নয়- বার্সেলোনা তার চেয়ে বড়। এ ব্যাপারে তার সতর্ক থাকা উচিত।’
‘আমি এই কথাগুলো বলছি সেই খেলোয়াড়ের প্রতি আমার ঐতিহাসিক ভালোবাসা থেকে, যাকে আমি ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনায় এনেছিলাম, যখন আমি ক্লাবের সভাপতি ছিলাম। একজন ব্যক্তি হিসেবে মেসির চেয়ে বার্সেলোনা বড়।’
মেসির ফুটবলীয় অর্জনে বার্সেলোনার অবদানের কথাও তুলে ধরেছেন গাসপার্ট। তার মতে, মেসি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হয়েছেন, যার পেছনে বার্সেলোনারও বড় ভূমিকা রয়েছে।
বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়ার পর থেকেই মেসি ও হোয়ান লাপোর্তার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০২১ সালে আর্থিক জটিলতার কারণে বার্সেলোনার সঙ্গে মেসির দীর্ঘ সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপর পিএসজি হয়ে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেন আর্জেন্টাইন তারকা।
গাসপার্টের মতে, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বার্সেলোনার সমর্থকদের বিদায় জানানোর বিষয়টি আলাদা করে দেখা উচিত।
তিনি বলেন, ‘তিনি একজন অসাধারণ খেলোয়াড়, বিশ্বের সেরা। এর পেছনে বার্সেলোনারও অবদান আছে। তাই এটি তার ভুলে যাওয়া উচিত নয়।’
মেসির প্রতি নিজের সহনশীলতার কথা জানিয়ে গাসপার্ট বলেন, ‘এখনো আমি তাকে সময় দিচ্ছি। কিন্তু এমন একটা দিন আসবে, যখন বার্সেলোনায় এসে সমর্থকদের বিদায় জানানোর পথে মেসি সামান্যতম বাধা সৃষ্টি করলেও বিষয়টি আমাকে বিরক্ত করবে।’
ক্যাম্প ন্যুতে ফেরার ক্ষেত্রে মেসি লাপোর্তার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিকে শর্ত হিসেবে দেখতে পারেন- এমন সম্ভাবনার বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছেন গাসপার্ট।
তার বক্তব্য, ‘সভাপতি যিনিই হোন না কেন, মেসিকে বার্সেলোনায় এসে বিদায় জানাতে হবে। লিও যদি শুধু লাপোর্তা চলে যাওয়ার পর বিদায় জানাতে আসে এবং লাপোর্তা সভাপতি থাকায় আসতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে আমি তাকে কোনো সংবর্ধনাই দেব না।’
এরপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘নিজেকে কী মনে করে সে? লাপোর্তা সভাপতি থাকবেন কি না, তার ওপর বার্সেলোনায় আসা নির্ভর করবে- এমন শর্তারোপ করার অধিকার তার নেই। যদি সেই শর্তের কারণে লাপোর্তা সভাপতি না থাকতেন, তাহলে আমিও ওই সংবর্ধনায় উপস্থিত থাকতাম না।’
বার্সেলোনার হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ১০টি লা লিগাসহ অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন মেসি। ক্লাবটির জার্সিতে ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্যের অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তবে ২০২১ সালে আর্থিক সংকটের কারণে প্রিয় ক্লাব ছাড়তে হওয়ায় আনুষ্ঠানিক বিদায় নেওয়ার সুযোগ পাননি আর্জেন্টাইন তারকা।
সেই অপূর্ণ বিদায়কে ঘিরেই এখন নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। গাসপার্ট চান, মেসি ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা পাশে রেখে ক্যাম্প ন্যুতে ফিরে সমর্থকদের সামনে বিদায় নিক।
তবে মেসি কবে বার্সেলোনায় ফিরবেন কিংবা আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সংবর্ধনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। আপাতত গাসপার্টের কড়া মন্তব্যে মেসির বিদায় ঘিরে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।