প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এমপিওভুক্ত কিংবা সরকারিকরণ হয়নি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। মাত্র একটি নামফলককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অবহেলার শিকার হয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ধুঁকছে এ প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৮ সালে একই প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২টি পরবর্তী সময়ে এমপিওভুক্ত ও সরকারিকরণ করা হলেও একা বঞ্চিত নারী শিক্ষার এ বিদ্যাপীঠ। প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার অভাবে একসময় আবাসিক সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি এখন নানা সংকটে ধুঁকছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা পাচ্ছেন নামমাত্র সম্মানী, পরিত্যক্ত হয়ে আছে আবাসিক ভবনগুলো, আর সীমিত সুযোগ-সুবিধায় চলছে ছাত্রীদের পাঠদান।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজনৈতিক বিরূপতা ও অবহেলার কারণে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইছবপুর এলাকায় অবস্থিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থা বেহাল।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, তিনতলা বিশিষ্ট অ্যাকাডেমিক ভবনে কোনো রকম ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকার্যক্রম চললেও আবাসিক ব্যবস্থা সম্বলিত এ প্রতিষ্ঠানটির একতলা থেকে চারতলা বিশিষ্ট আরও ৭টি ভবন বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ সব ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় কোনো ছাত্রী আবাসিক ভবনে থাকার সুযোগও পাচ্ছেন না।
হাসপাতাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
অনুসন্ধানে জানা যায়, চা-বাগানের শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০০ সালের দিকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) অর্থায়নে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছবপুর এলাকায় ঢাকা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পাঁচ একর জমিতে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। তবে উদ্বোধনের পর হাসপাতালটির কার্যক্রম বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কয়েক মাসের মধ্যেই এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম অন্য হাসপাতালগুলোতে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৪ সালের মাঝামাঝি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালির মাধ্যমে হাসপাতালের অবকাঠামোসহ জমিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনা হয়।
২০০৫ সালের ২৩ জুলাই তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমান ‘শ্রীমঙ্গল উচ্চ মাধ্যমিক আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়’ নামে প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালের অবকাঠামো পরিবর্তন ও উন্নয়নকাজ করা হয়। পরে ২০০৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ‘শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক কে এম আওরঙ্গজেব। প্রথম অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের তৎকালীন উপাধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ।
একই প্রকল্পের ১২ প্রতিষ্ঠান সরকারীকরণ
২০০৮ সালে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরসহ ১৩টি স্থানে আবাসিক মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মধ্যে ১২টি প্রতিষ্ঠান প্রথমে এমপিওভুক্ত এবং পরবর্তী সময়ে সরকারীকরণ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। কিন্তু শ্রীমঙ্গলের প্রতিষ্ঠানটি সেই তালিকার বাইরে থেকে যায়। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরুর সময় মাউশি ১১ জন শিক্ষক এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১৭ জন কর্মচারী নিয়োগ দেয়।
নিয়োগের প্রাথমিক শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে তাদের প্রচলিত এমপিও পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা পাওয়ার কথা ছিল। চার বছর পর এমপিও পদ্ধতির বেতন-ভাতার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকেও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি। ২০০৯ সালের পর প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন কার্যক্রম অনেকটাই থমকে যায়। বেতন-ভাতা ও চাকরির অনিশ্চয়তায় শুরুর দিকে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের অনেকেই চাকরি ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যান
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরম খেসারত
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক একই প্রকল্পে চালুকৃত অন্য ১২টি বিদ্যাপীঠ দ্রুত এমপিওভুক্ত ও জাতীয়করণ করা হলেও শ্রীমঙ্গলের প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে নেমে আসে স্থবিরতা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০৯ সালে ক্ষমতা বদলের পর অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর নামফলক থাকার কারণেই এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, এমপিওভুক্তির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ করা হলে বারবার এক নীতি নির্ধারক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের রক্তচক্ষু ও নামফলকের বিষয়টি সামনে আনা হতো।
সাতটি ভবন পরিত্যক্ত, বন্ধ আবাসিক কার্যক্রম
সরেজমিনে দেখা যায়, পাঁচ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ক্যাম্পাসে রয়েছে অ্যাকাডেমিক ভবন, আবাসিক ভবন, খেলার মাঠ, অফিসকক্ষ, শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক ও ছাত্রী মিলনায়তন, সম্মেলনকক্ষ, অডিটোরিয়াম, ডাইনিং হল এবং কম্পিউটার ল্যাব। ছাত্রীদের খেলাধুলার সরঞ্জামও রয়েছে সেখানে। কিন্তু প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে অবকাঠামোর বড় অংশ এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। আবাসিক ব্যবস্থার জন্য নির্মিত ভবনগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। গাড়ির গ্যারেজ, পানির পাম্পঘর ও ক্যানটিনও অব্যবহৃত। মূল একাডেমিক ভবনের নিচতলায় কোনোভাবে শ্রেণি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
উপরতলার বিভিন্ন কক্ষের আসবাব, কাঠের দরজা ও জানালা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবাসিক সুবিধা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানটির মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী থেকে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে না। বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শতাধিক ছাত্রী এখানে পড়াশোনা করছে।
শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১৬ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ১৩ জন, অষ্টম শ্রেণিতে ১৭ জন, নবম শ্রেণিতে ১৫ জন এবং দশম শ্রেণিতে ১৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। গত এসএসসি পরীক্ষায় ২৪ জন অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৬ জন। দ্বাদশ শ্রেণিতে রয়েছে ২৩ জন শিক্ষার্থী। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০৩ জনের ফল প্রকাশের অপেক্ষায় থাকার তথ্যও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত সরকারীকরণ
প্রতিষ্ঠানটির নবম, দশম ও একাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। তাদের মতে, প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত বা সরকারিকরণ হলে আরও বেশি শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনার সুযোগ পেত।
একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার লিসা বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এটি সরকারি বা এমপিওভুক্ত হলে বর্তমানের চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ শিক্ষার্থী পড়াশোনার সুযোগ পেত। আমাদের এলাকার অনেক শিক্ষার্থী অকালে ঝরে যাচ্ছে। সরকারের কাছে দাবি, দ্রুত আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দিকে নজর দেওয়া হোক।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, ‘অনেক আগেই প্রতিষ্ঠানটি সরকারীকরণ হওয়ার কথা ছিল। ২০০৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন ও এমপিওভুক্তির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তৎকালীন সময়ে অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের নামসংবলিত ফলক নিয়ে আপত্তির কথা শুনতে হয়েছে। আমাদের ধারণা, এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি বঞ্চনার শিকার হয়েছে।’
ওই শিক্ষক আরও বলেন, ‘দেশের একই প্রকল্পের অন্য ১২টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত ও সরকারীকরণ করা হলেও শ্রীমঙ্গলের প্রতিষ্ঠানটি কেন বাদ পড়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বর্তমান সরকারের কাছে প্রতিষ্ঠানটিকে অন্যগুলোর মতো সরকারিকরণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’
৫-৬ হাজার টাকায় চলছে পাঠদান
বর্তমানে অধ্যক্ষসহ ১১ জন শিক্ষক প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান করছেন। এ ছাড়া রয়েছেন দুজন অফিস সহকারী, একজন নৈশপ্রহরী ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। অধ্যক্ষ ছাড়া বাকি ১০ জন প্রভাষক ও সহকারী শিক্ষক মাসে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা সম্মানি পান। শিক্ষার্থীদের বেতন আদায়ে দেরি হলে সেই সামান্য সম্মানিও সময়মতো দেওয়া সম্ভব হয় না বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক অলকা ভৌমিক বলেন, ‘নামমাত্র যাতায়াত খরচ দেওয়া হয় আমাদের। অনেকটা স্বেচ্ছাশ্রমে দীর্ঘদিন ধরে আমরা ছাত্রীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বেতনের অর্থ দিয়েই মূলত প্রতিষ্ঠানটির দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। সরকারি বা অন্য কোনো নিয়মিত আর্থিক সহায়তা না থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্মানী প্রদান, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও শিক্ষার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অধ্যক্ষের ভাষ্য, অবকাঠামো থাকলেও নেই পর্যাপ্ত অর্থ
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক অসিত কুমার পাল বলেন, ‘আমি ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর এখানে যোগদান করি। এর আগে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছি। এ প্রতিষ্ঠানে যে অবকাঠামো রয়েছে, তা একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বড় পরিসরে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী করে গড়ে তোলার সম্ভাবনা রাখে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি।’
অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শুরুতে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়ে সংকট তৈরি হয়। হতাশ হয়ে অনেকে অন্য পেশায় চলে যান। এখন ১০ জন খন্ডকালীন প্রভাষক ও সহকারী শিক্ষক দিয়ে কোনোভাবে পাঠদান চালানো হচ্ছে। তাদের সম্মানী এবং কর্মচারীদের ব্যয় শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকা থেকে মেটাতে হয়। এভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। অবিলম্বে এমপিওভুক্ত বা সরকারিকরণ করা হলে এলাকার হাজারো দরিদ্র মেয়ে ঝরেপড়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।’
সরকারীকরণের প্রস্তাব পাঠানোর আশ্বাস ইউএনওর
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ আমি নিজেও একাধিকবার প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটিকে নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা করছি। স্বল্প বিনিয়োগে পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে। একইসঙ্গে জাতীয়করণের একটি প্রস্তাব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জাতীয়করণ একটি বড় প্রক্রিয়া, প্রস্তাব পাঠালেই তা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। জাতীয়করণ না হলেও প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় সংস্কার, অন্যান্য উন্নয়ন এবং শিক্ষার মান বজায় রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
সরেজমিন ভিজিট ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস মাউশি আঞ্চলিক পরিচালকের
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সিলেট অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. দিদার চৌধুরী দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘কিছু দিন আগে আমি শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া স্কুলে একটি অনুষ্ঠানে গেলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টরা এ স্কুলটির এমপিওভুক্তির বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেন। মরহুম এম সাইফুর রহমান সাহেব আমাদের সবার প্রিয় মানুষ ছিলেন। উনার নাম যুক্ত থাকায় রাজনৈতিক কারণে এটি এতদিন এমপিওভুক্ত হয়নি এমন অভিযোগ শুনেছি। আমি উনাদের বলেছি একটি লিখিত আবেদন দিতে, যাতে আমি বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠাতে পারি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিলম্ব হলেও আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে আমি নিজে সরেজমিনে স্কুলটি পরিদর্শন করব। প্রতিষ্ঠানটির এমপিওভুক্তি বিষয়ে যাবতীয় তথ্য পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
স্থানীয় সচেতনমহলের দাবি
দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাবনাময় এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকট ও অবকাঠামোগত অব্যবস্থাপনায় পিছিয়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারের কার্যকর সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হলে শ্রীমঙ্গলসহ আশপাশের এলাকার মেয়েদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি আবারও মানসম্মত শিক্ষা ও আবাসিক সুবিধা প্রদানের সক্ষমতা ফিরে পাবে।
কেকে/এআই