কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ রিং জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় ১৩টি অবৈধ রিং জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে। জব্দ করা জালগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৫ হাজার টাকা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের গাবতলী বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে মুসলিমার নির্দেশনায় অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অন্তরা সরকার। এ সময় উপজেলা মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জলাশয়ে অবৈধ ও ক্ষতিকর জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার ফলে দেশীয় মাছের উৎপাদন ও প্রজনন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সব জালে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ একসঙ্গে ধরা পড়ায় মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অভিযানকালে গাবতলী বাজার এলাকায় মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত ১৩টি অবৈধ রিং জাল জব্দ করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে জালগুলোর মালিক বা সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দ করা জালগুলো বিনষ্ট করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, অবৈধ রিং জালের ব্যবহারের কারণে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সব জালে ছোট মাছও ধরা পড়ায় দীর্ঘমেয়াদে জলাশয়ে মাছের পরিমাণ কমে যেতে পারে। মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি প্রয়োজন।
অন্তরা সরকার বলেন, ‘অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরা মৎস্যসম্পদ ও জলজ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ জাল ব্যবহার ও সংরক্ষণের বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এআই