সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬,
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● আবুধাবি টেস্টে জয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ      ● ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদগামী বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত      ● হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৪২১      ● ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু, চলতি বছরে আক্রান্ত লাখ ছাড়ালো      ● ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে করের ৬৬৬ কোটি টাকা দিতে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ      ● দুইদিন বন্ধ থাকবে এলপিজি সিলিন্ডারের দোকান       ● জানুয়ারিতে শুরু ইউপি নির্বাচন, পাঁচ ধাপে হবে শেষ      
দেশজুড়ে
শিশুর গলায় ছুরি ধরে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৬ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় চার বছরের শিশুর গলায় ছুরি ধরে দুই প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। 

সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোররাত ৩টার দিকে উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

ডাকাত দল পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, দামি মোবাইল ফোনসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এ ঘটনায় প্রবাসী রমজান মিয়া ও তার চাচা উসমান মিয়ার পরিবার নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ভুক্তভোগী প্রবাসী রমজান মিয়ার স্ত্রী বিলকিছ বেগম জানান, সোমবার ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে দরজায় ডাকাডাকির শব্দে তাদের ঘুম ভাঙে। বাইরে থেকে নিজেদের পুলিশের লোক পরিচয় দিলে তারা দরজার ফাক দিয়ে দেখতে পান, বাইরে অনেক লোকজন দাঁড়িয়ে আছে। তাদের হাতে দা, শাবল, কুড়াল, ছুরিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল। এ অবস্থায় দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে ডাকাতরা শাবল ঢুকিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে।

বিলকিছ বেগম বলেন, ‘৮-৯ জন ডাকাত ঘরে ঢুকে। বাইরে অবস্থান করছিল আরও ১০-১২ জন। ঘরে ঢুকেই ডাকাতরা তার শ্বশুর-শাশুড়ির হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে তার কক্ষে গিয়ে চার বছর বয়সী শিশুর গলায় ছুরি ধরে ঘরে থাকা টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সব জিনিসপত্র দিয়ে দিতে বলে।’

এ সময় তার ও শাশুড়ির শরীরে থাকা স্বর্ণালংকার, দামি মোবাইল ফোন, নগদ এক লাখ টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় ডাকাতরা। এ ঘর থেকেই পাঁচ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মালামাল লুট করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রমজান মিয়ার বাড়িতে ডাকাতি চলাকালে পাশের ঘরে থাকা তার চাচা শ্বশুর প্রবাসী উসমান মিয়ার পরিবারের সদস্যরা তখনও ঘুমিয়ে ছিলেন। প্রথম বাড়িতে ডাকাতি শেষে উসমান মিয়ার ঘরের দরজায় আঘাত করতে থাকে ডাকাত দল। এ সময় তার স্ত্রী রিনা বেগমের চিৎকারে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রিনা বেগম জানান, রাত ৩টার দিকে হঠাৎ দরজায় আঘাতের শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। এত রাতে কে বা কারা দরজায় আঘাত করছে, তা বুঝতে না পেরে ভয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। তখন বাইরে থেকে ডাকাতরা হুমকি দিয়ে বলে, চেঁচামেচি করলে ঘরে ঢুকে বিচার করা হবে।

একপর্যায়ে ডাকাতরা শাবল দিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। তার দাবি, ৭-৮ জন ডাকাত ঘরে ঢোকে এবং বাইরে আরও ১০-১২ জন অবস্থান করছিল। ঘরে ঢুকেই তাকে ৬-৭টি থাপ্পড় মারে ডাকাতরা। পরে তার গলা ও কানে থাকা স্বর্ণালংকারসহ ঘরের অন্যান্য স্বর্ণালংকার, দামি মোবাইল ফোন এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এ বাড়ি থেকেও প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কায়েমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘সোমবার ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের প্রবাসী রমজান মিয়া ও তার চাচা উসমান মিয়ার বাড়িতে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় একাধিক সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। নতুন করে কার বাড়িতে কখন ডাকাত দল হানা দেয়, তা নিয়ে এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন।’

এতগুলো ঘটনার পরও একজনকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়নি কসবা থানা পুলিশ। এ সব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগে মানুষ দরজা খুলে ঘুমালেও চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটত না। কিন্তু কয়েক বছর ধরে এ সব অপরাধের প্রবণতা বেড়েছে।’ 

ডাকাতি প্রতিরোধে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানসহ উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘ডাকাতির বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে। সকালে ঘটনাস্থলে ডিবি টিম গিয়েছিল। ডিবি টিম ও কসবা থানা পুলিশ যৌথভাবে এ সব ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।’ 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এ সব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম জানান, ডাকাতির বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। কসবা থানার ওসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, রাতের বেলায় যেসব এলাকায় ডাকাতির প্রবণতা বেশি, সেসব এলাকায় টহল বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  কসবা   শিশু   ছুরি   প্রবাসী   বাড়ি   ডাকাতি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close