মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেঝেও রোগীতে ঠাসা। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বিশেষ করে শিশু রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত কারণে ঠান্ডা, জ্বর, কাশি, ডেঙ্গু, হাম, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ জন শিশু এবং ৩০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছেন।
সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নিচতলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের ব্যাপক উপস্থিতি। শয্যা না পেয়ে অনেককে করিডোর ও মেঝেসহ খোলা জায়গায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। মেঝতেও স্থান সংকটের ফলে চলাচলের স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। অসুস্থ শিশুদের কান্নাকাটি, স্বজনদের উদ্বেগ ও জনাকীর্ণ পরিবেশের কারণে হাসপাতালজুড়ে এক দমবন্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে ওয়ার্ডগুলোতে অসহনীয় গরমের সৃষ্টি হয়, যা শিশু ও বয়স্ক রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।
চিকিৎসা নিতে আসা তানিয়া খাতুন নামের এক শিশুর স্বজন বলেন, “এত গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে না। বাচ্চা অসুস্থ, তার ওপর শয্যা না পেয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। প্রচণ্ড কষ্ট হলেও রোগ সারানোর তাগিদে এ কষ্ট সহ্য করা ছাড়া উপায় নেই।”
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মহোসিন উদ্দীন ফকির বলেন, ‘হাসপাতালে অনুমোদিত শয্যা রয়েছে ২৫০টি। কিন্তু বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছে ৭০০ জনেরও বেশি। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় প্রায় তিনগুণ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারপরও আমরা রোগীদের শতভাগ সেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
কেকে/এমএ