চশমা ছাড়াই নিয়মিত নামাজ আদায় ও পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করতেন নাটোরের গুরুদাসপুরের প্রবীণ আব্বাস প্রামাণিক। ভোটার পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম ১৯০৩ সালে। সেই হিসাবে তার বয়স হয়েছিল ১২৩ বছর।
বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।
আব্বাস প্রামাণিকের দীর্ঘ জীবনে ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক সময়ের সাক্ষী হওয়ার কথা জানা গেছে। কর্মজীবনে মাত্র ৬০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। পাশাপাশি এলাকার শিশুদের বিনা মূল্যে কোরআন শিক্ষা দিতেন।
আব্বাস প্রামাণিক খুবজীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বাবা মৃত সদর উদ্দিন। দুই মেয়ে ও ছয় ছেলেসন্তান রেখে গেছেন তিনি। তার স্ত্রী অনেক আগেই মারা গেছেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন আব্বাস প্রামাণিক। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও চশমা ছাড়াই স্পষ্ট দেখতে পেতেন তিনি। নিয়মিত নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি হাতে রাখতেন ক্যাসিও ঘড়ি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমেও তাঁকে নিয়ে আলোচনা হয়।
জানা গেছে, একসময় তার অর্থ-সম্পদ থাকলেও জীবনের শেষ সময় কেটেছে ভাঙাচোরা ঘরে। নাতি ও নাতবউয়েরা সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর দেখাশোনা করতেন। বার্ধক্যেও নিজের কাজ নিজেই করার চেষ্টা করতেন তিনি। বেশির ভাগ সময় হেঁটেই চলাফেরা করতেন।
আব্বাস প্রামাণিকের মেয়ে আলিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘৫ বছর বয়সে মা মারা যান। বাবার কাছেই বড় হয়েছি। সুযোগ পেলেই পছন্দের খাবার নিয়ে বাবাকে দেখতে যেতাম। তিনি তার সন্তান ও নাতিদের সঙ্গেই থাকতেন।’
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘প্রবীণ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন আব্বাস প্রামাণিক। উপজেলা প্রশাসন সব সময় তাঁর পাশে ছিল। আব্বাস প্রামাণিকের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।’
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দুর্গাপুর প্রাইমারি স্কুল মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
কেকে/সাশ