আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে অসাধারণ ব্যাটিং করলো আফগানিস্তান। যার ফলে বাংলাদেশকে জিততে না দিয়ে দারুণ একটি ড্র নিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়লো আফগানরা। ৪৭৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৪৬ রান করে তারা। ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন কাইস আহমেদ। ড্র করার পর আফগানদের আনন্দ দেখে মনে হচ্ছিল, এটা যেন জয়ের চেয়েও কিছু বেশি তাদের কাছে। অন্যদিকে হতাশা দেখা গেছে বাংলাদেশ শিবিরে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আফগান ওপেনার সেদিকুল্লাহ অটলই বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটাকে কঠিন করে তোলেন। ৩৩২ বল খেলে ১১১ রান করে ম্যাচটাকে ড্র করতে দারুণ ভূকিমা রাখেন তিনি। শুধু সেদিকুল্লাহই নন, রহমত শাহ থেকে শুরু করে প্রায় সব আফগান ব্যাটারই মাটি কামড়ে উইকেটে পড়ে থাকার শপথ নিয়ে যেন মাঠে নেমেছিল। যে কারণে দেখা যায়, ইসমত আলমকে ৬০ বল খেলে মাত্র ৪ রান করতে।
১১১ রান করা সেদিকুল্লাহ অটলকে সাজঘরে ফেরত পাঠান স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ১১৯তম ওভারের ৪র্থ তাইজুলের বলটি ছিল প্যাড বরাবর লেংথ বল। ব্যাটের মোটা কানায় লেগেছে কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও বলটি গিয়ে আঘাত করে প্যাডে। সেখান থেকে লাফিয়ে উঠে সরাসরি শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডারের হাতে জমা পড়ে বলটি।
আফগানিস্তানকে দারুণ এক ড্রয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান অটল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাট করতে পারলেন না তিনি। সেদিকুল্লাহকে আউট করার পর ৮৫ বলে ১৯ রান করা ইয়ামিন আহমদজাইকেও আউট করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবুও শেষ পর্যন্ত আফগানদের অলআউট করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৪০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন কাইস আহমেদ। ১২ বল খেলে কোনো রান করেননি জিয়া-উর রহমান। শেষ পর্যন্ত ১৪২ ওভার ব্যাট করে ৩৪৬ রান করে আফগানিস্তান।
জিততে হলে রীতিমত রেকর্ড গড়তে হবে। আফগানিস্তান সেই রেকর্ড গড়ার পথে না হাঁটলেও টেস্ট বাঁচানোর পথে হেঁটেছে। জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ ইনিংসে দারুন লড়াই করে আফগানরা। যদিও সেদিকুল্লাহ অটলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে বড় স্বপ্ন দেখে তারা। ১৬৬ বল খেলে হাফ সেঞ্চুরি করার পর ২৭৭ বলে সেঞ্চুরির ঘরে পৌঁছান তিনি।
চতুর্থ দিন বিকেলেই ৩ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান তোলে আফগানিস্তান। সেদিকুল্লাহ অটল ৩৫ রানে এবং হাসমতউল্লাহ শহিদি ব্যাট করছিলেন ১৯ রানে। পঞ্চম ও শেষ দিন সেদিকুল্লাহর অটল ব্যাটিং আফগানদের স্বপ্ন দেখায়। যদিও তিনি সেঞ্চুরি করে একপ্রান্ত আগলে রাখলেও অন্যপ্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ছিল।
আজ সকালে ব্যাট করতে নেমে দিনের তৃতীয় ওভারেই ইনজুরিতে পড়ে যান আফগান ব্যাটার হাশমতউল্লাহ শহিদি। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ব্যাট করে এক রান নিতে যান সেদিকুল্লাহ অটল। সিলি মিড অনে দৌড়ে এসে একজন ফিল্ডার বল ছুঁড়ে মারেন। যেটা গিয়ে সরাসরি আঘাত করে শহিদির প্যাডে। সঙ্গে সঙ্গেই প্রচণ্ড ব্যাথায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকলো। ডাক্তার-ফিজিও এসে চেষ্টা করলেন তাকে সুস্থ করার; কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্যাড খুলে নিয়ে মাঠের বাইরে চলে যান শহিদি। এ সময় তিনি ব্যাট করছিলেন ২০ রান নিয়ে। এরপর সেদিকুল্লাহর সঙ্গে জুটি বাধেন ইকরাম আলিখিল। তারা দু’জন ৪৬ রানের জুটি গড়েন। যেটাতে ভাঙন ধরান এবাদত হোসেন।
দলীয় ২০২ রানের মাথায় ইকরামকে আউট করেন এবাদত। তবে এই উইকেট পড়ার পেছনে বড় কৃতিত্ব লিটন দাসের। আবুধাবি টেস্টে যেন দুর্দান্ত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। উইকেটের পেছনে ইকরামের দুর্দান্ত ক্যাচ ধরলেন লিটন।
কোমর বরাবর শর্ট বল করেছিলেন এবাদত। পুল করতে গিয়ে গ্লাভসে লাগিয়ে ফেলেন ইকরাম আলিখিল। বলটি লিটনের ডান দিকে যাচ্ছিল। তবে ডান দিকে শরীর ছুড়ে দিয়ে প্রায় মাটির সমান্তরালে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে ক্যাচটি তালুবন্দী করেন তিনি। ৬৯ বল খেলে ৩৩ রান করে ফিরে যান ইকরাম।
এরপর যখন সেদিকুল্লাহ অটল সেঞ্চুরি করলেন, তখন অন্যদিকে তার সঙ্গে ৪০ রানের জুটি গড়া ইসমত আলমকে আউট করেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬০ বল খেলে মাত্র ৪ রান করেছেন ইসমত।
তাদের ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটান মেহেদী হাসান মিরাজ। আহত অবস্থা থেকে মাঠে ফিরে আসা হাসমতউল্লাহ শহিদিকে মিডঅনে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি। ৬৯ বলে ৩৬ রান করে আউট হন তিনি।
হাসমতউল্লাহ শহিদির পর আউট হন সেদিকুল্লাহ এবং ইয়ামিন আহমদজাই। বাকি দুই উইকেট নিতে না পারায় ম্যাচটাই শেষ পর্যন্ত ড্র হলো। এবাদত ও মেহেদী হাসান মিরাজ নেন তিনটি করে উইকেট।
কেকে/এমএ