জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘দেশে আমাদের কোনো নিরাপত্তা নাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন সাহেব তিনি আমাদের দেশে নিরাপত্তা দিতে পারেন না, আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তিনি আমাদের বিদেশে নিরাপত্তা দিতে পারেন না।’
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকাল ৫টার দিকে মাদারীপুর শকুনি লেকপাড় মুক্তমঞ্চে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জ্বালানি তেলের মূল্যেবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সারের ডিলার, নিয়োগে দলীয়করণ, চাকরি ক্ষেত্রে নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত নাগরিক সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমানের সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এসেছেন অথচ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের যে সকল শক্তি তাদেরকে তিনি নিরাপত্তা দিতে পারছেন না। বাংলাদেশের জনগণ এখন কোথায় যাবে। যদি গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে আসা সরকার যদি ব্যর্থ হয়। আমরা ইতিমধ্যে দেখতে পেয়েছি সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’
বাংলাদেশকে আর কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির নিয়ন্ত্রণে আসতে দেওয়া হবে না এবং গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষে ভারত থেকে দেশের ন্যায্য হিস্যা আদায় করে নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘খলিলুর রহমান এ অন্তর্বর্তী সরকারে ডক্টর ইউনুসের মাধ্যমে এসেছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। পরবর্তী বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন এবং জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তার ব্যক্তিগত অর্জন অনেক হয়েছে কিন্তু দেশের মানুষের নিরাপত্তা উনি বিদেশে নিশ্চিত করতে পারে নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেই আমেরিকার সঙ্গে তিনি এত চুক্তি করলেন, যেই ডক্টর ইউনূসের মাধ্যমে তিনি এ দেশের সরকারের অংশীদার হলেন সেই আমেরিকাতে ড. ইউনুসকে হেনস্থা করা হলো। এটা অবশ্যই ডক্টর খলিলুর রহমানের ব্যর্থতা এ দায় তাকে নিতে হবে এবং নেওয়া উচিত।’
এ সময় মাদারীপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম ভূইয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলাম, এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ন-আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, মাদারীপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব ইয়াজ্জেন হোসেন রোমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসিবুল্লাহ প্রমুখ।
কেকে/এআই