কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে না। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৭৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৪৬ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১৫১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় মোট ২ হাজার ৩৩৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ১৮৩ জন। এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ভর্তি রয়েছেন ৫২ জন। এ ছাড়া ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৮ জন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ১৫ জন, কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন এবং প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ ছাড়া বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন, জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী কাঞ্চন মিয়া বলেন, ‘গত ছয় দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলাম। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খেয়েও জ্বর ভালো হয়নি। পরে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এখন এখানে ভর্তি আছি। আগের চেয়ে ভালো বোধ করছি।’
এক রোগীর স্বজন আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। চিকিৎসকেরা নিয়মিত রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। আমরা আশা করছি, দ্রুত সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরতে পারবেন। তবে ডেঙ্গু নিয়ে কিছুটা উদ্বেগের মধ্যে আছি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সব ধরনের নিয়ম মেনে চলছি।’
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম ও পুরোনো টায়ারে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি দিনের বেলায়ও মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশিকা ও নির্ধারিত চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোগীদের মশারির মধ্যে রাখা, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রোগীদের স্বজনদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। জ্বর বা শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।
কেকে/সাশ