দেশে সাম্প্রতিক সময়ে নৃশংস ঘটনা ও হত্যাকাণ্ড আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। তুচ্ছ ঘটনায় বড় পদক্ষেপ নেওয়া, পারিবারিক কলহ, সামাজিক অস্থিরতা, আধিপত্য বিস্তারসহ রাজনৈতিক কারণ এসব ঘটনায় নেপথ্যে কাজ করছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা, দ্বন্দ্ব, লোভ ও হতাশা থেকেই মানুষ দিন দিন নৃশংস হয়ে উঠছে। শ্রদ্ধাবোধ না থাকায় মানুষের মধ্যে আইন ভাঙার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। আবার অনেক ঘটনায় সঠিক সময় ও আইনানুযায়ী বিচার না হওয়ায় মানুষের মধ্যে বিরূপ মনোভাব তৈরি হচ্ছে। নৃশংস এসব ঘটনা ঘরে-বাইরে সর্বত্রই যেন মহামারি আকার ধারণ করছে। অনেক সময় প্রতিপক্ষ কিংবা স্বজন— কেউই এই নৃশংসতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
এসব নৃশংস ঘটনা ও হত্যাকাণ্ড জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। গত শুক্রবার একদিনেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সাতক্ষীরার তালায় মাছ চুরি সন্দেহে ক্ষিতিশ মণ্ডল (৫২) নামের এক ঘের ব্যবসায়ীকে গাছে বেঁধে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জেয়ালা উত্তর খোলা বিলের বিশ্বনাথ ঘোষের মাছের ঘেরে চুরি সন্দেহে ক্ষিতিশকে আটক করা হয়। পরে তাকে জেয়ালা শ্মশানঘাট এলাকায় নিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, রাতভর নির্যাতনের সময় ক্ষিতিশের হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয় এবং মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। এমনকি তার চোখ উপড়ে ফেলারও চেষ্টা করা হয়।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের টরকি মৃধাবাড়ি এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে মুন্না মৃধা (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাতের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ ওঠে। তার বাম হাতের রগ কাটা ছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ও রক্তাক্ত জখমও ছিল। পুলিশ বলছে, মুন্নার সঙ্গে হত্যায় অভিযুক্তদের মাদকসংক্রান্ত বিরোধ ছিল। সেই বিরোধে হত্যার ঘটনা ঘটে। কুমিল্লা নগরীতে কাউছার নামের এক ওয়ার্ড যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে ৭০ বছর বয়সি মাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ছেলে নুরু আলম। ভোরে নিজ বসতঘরে ধারালো দা দিয়ে তার গলায় কোপ দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত নুরু আলমকে আটক করে।
এসব ঘটনায় অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তৎপরতার কথা বলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিকভাবে সামাজিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধ এবং আধিপত্য বিস্তারের মতো বিষয়গুলো সামনে আসছে। মানুষের মধ্যে দিন দিন অস্থিরতা বাড়ছে। আবার মাদককারবারও মানুষকে অস্থির করে তুলছে। ফলে মানুষ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে যা খুশি তাই করছে।
এ অবস্থায় আমাদেরকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সামাজিকভাবে সচেতন হতে হবে। সবার মধ্যে সহমর্মিতা, আন্তরিকতা, সৌহার্দ, সদ্ভাব বাড়াতে হবে। পাশাপাশি অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে। লোভ, হিংসা, হানাহানি ভুলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ করতেই হবে।
কেকে/এআই