ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের উলুধ্বনিতে মুখর শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজামণ্ডপে মণ্ডপে চলছে দেবী দুর্গার আরাধনা। উৎসবের এ আমেজে ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ পদ্মফুলের চাহিদা। এ চাহিদাকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন এলাকার খাল, বিল ও বাঁওড় থেকে পদ্মফুল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করছেন স্থানীয় সংগ্রহকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। বাজারে প্রতি পিস পদ্মফুল বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা দরে।
দুর্গাপূজার বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে পদ্মফুলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই পূজাকে কেন্দ্র করে ভক্ত ও পূজামণ্ডপের আয়োজকেরা পদ্মফুল সংগ্রহ করছেন। আর এ সুযোগে জলাশয় থেকে ফুল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রির মাধ্যমে মৌসুমি আয়ের পথ তৈরি হয়েছে স্থানীয় সংগ্রহকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।
দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকার খাল, বিল ও বাঁওড় থেকে পদ্মফুল সংগ্রহ করছেন স্থানীয়রা। ভোরে জলাশয়ে গিয়ে ফুল সংগ্রহের পর সেগুলো বাজারে নিয়ে আসছেন তারা। পরে পূজার উপকরণ হিসেবে বিক্রি করছেন ক্রেতাদের কাছে।
পদ্মফুলের প্রাপ্যতা ও ক্রেতাদের চাহিদার ওপর নির্ভর করছে বিক্রির পরিমাণ। দুর্গাপূজার বিশেষ দিনগুলোতে ফুলটির চাহিদা বাড়ায় সংগ্রহকারী ও বিক্রেতাদের ব্যস্ততাও বাড়ছে। তবে এ মৌসুমি ব্যবসা থেকে তাদের কতটা আয় হচ্ছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে পদ্মফুল পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও শুভ্রতার প্রতীক। কাদামাটির মধ্যে জন্মেও নির্মল সৌন্দর্য ধরে রাখার কারণে ফুলটিকে বিশেষ মর্যাদায় দেখা হয়। দেবী দুর্গাসহ বিভিন্ন দেবদেবীর পূজায় পদ্মফুল নিবেদনের প্রচলন রয়েছে।
দুর্গাপূজায় পদ্মফুলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১০৮টি নীলপদ্মের পৌরাণিক কাহিনি। প্রচলিত আখ্যান অনুযায়ী, রাবণবধের আগে রামচন্দ্র দেবী দুর্গার অকালবোধন করে পূজা করেন। পূজায় ১০৮টি নীলপদ্ম নিবেদনের আয়োজন করা হলেও শেষ মুহূর্তে একটি পদ্ম কম পড়ে যায়। তখন পদ্মলোচন রামচন্দ্র নিজের চোখ উৎসর্গ করতে উদ্যত হন। তার ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে দেবী দুর্গা আবির্ভূত হন এবং তাকে আশীর্বাদ করেন। এ কাহিনী ভক্তি, আত্মত্যাগ ও দেবীর প্রতি গভীর বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে প্রচলিত।
দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ উৎসব ঘিরে তৈরি হয় আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনমেলার পরিবেশ। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, ধূপ-ধুনো আর ফুলের অর্ঘ্যে পূজামণ্ডপগুলো হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
এই আয়োজনের অন্যতম অনুষঙ্গ পদ্মফুল। দেবীর চরণে পদ্ম নিবেদনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা প্রার্থনা করেন মঙ্গল ও আশীর্বাদের। ফলে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি পদ্মফুলের বেচাকেনা ঘিরে স্থানীয় বাজারেও তৈরি হয়েছে বাড়তি ব্যস্ততা।
সব মিলিয়ে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের খাল-বিল-বাঁওড় থেকে পদ্মফুল সংগ্রহ ও বাজারে বিক্রির চিত্রে ফুটে উঠেছে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও মৌসুমি জীবিকার এক যোগসূত্র। প্রতি পিস ৫-১০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া পদ্মফুল পূজার উপকরণ হিসেবে ভক্তদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয় সংগ্রহকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ের সুযোগও তৈরি করছে।
কেকে/এআই